রামকৃষ্ণদেবের স্মৃতি বিরাজিত লক্ষ্মী জলাতে ধান রোপন
আরামবাগ , ১৬ জুলাই (হি.স.): রথযাত্রার পুণ্যতিথিতে বৃহস্পতিবার হুগলির গোঘাটের কামারপুকুরে আবারও জীবন্ত হয়ে উঠল এক প্রাচীন ঐতিহ্য। চিরাচরিত প্রথা মেনে কামারপুকুর শ্রীরামকৃষ্ণ মঠ সংলগ্ন ঐতিহাসিক লক্ষ্মীজলা জমিতে একসঙ্গে ধান রোপণ করলেন মঠের মহারাজ ও স
লক্ষ্মীজলাতে ধান রোপন করছেন কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ মিশনের সন্ন্যাসী রা


আরামবাগ , ১৬ জুলাই (হি.স.): রথযাত্রার পুণ্যতিথিতে বৃহস্পতিবার হুগলির গোঘাটের কামারপুকুরে আবারও জীবন্ত হয়ে উঠল এক প্রাচীন ঐতিহ্য। চিরাচরিত প্রথা মেনে কামারপুকুর শ্রীরামকৃষ্ণ মঠ সংলগ্ন ঐতিহাসিক লক্ষ্মীজলা জমিতে একসঙ্গে ধান রোপণ করলেন মঠের মহারাজ ও সাধু-সন্ন্যাসীরা। বহু দশক ধরে চলে আসা এই আচার শুধুমাত্র কৃষিকাজের সূচনা নয়, বরং শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণদেবের পারিবারিক স্মৃতি ও বাংলার কৃষি-সংস্কৃতির এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।

কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী লোকোত্তরানন্দজি মহারাজ জানান, রামকৃষ্ণদেবের পিতা ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় যখন নিজের আদি নিবাস ছেড়ে কামারপুকুরে বসবাস শুরু করেন, তখন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু স্থানীয় সুখলাল গোস্বামী লক্ষ্মীজলায় প্রায় দু'বিঘা জমি তাঁকে দান করেন। সেই জমিকেই কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে পরিবারের কৃষিনির্ভর জীবনযাত্রা।

প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, প্রতি বছর ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় তাঁর আরাধ্য দেবতা রঘুবীরকে স্মরণ করে নিজ হাতে প্রথম ধানের চারা রোপণ করতেন। এরপর গ্রামের কৃষকরা বাকি জমিতে ধান রোপণের কাজ সম্পূর্ণ করতেন। এই লক্ষ্মীজলার ধানই ছিল তাঁর পরিবারের সারা বছরের জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন।

পরবর্তীকালে ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায়ের তিরোধানের পর সেই ঐতিহ্যের দায়িত্ব গ্রহণ করে কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ। তখন থেকেই প্রতি বছর রথযাত্রার দিন মঠের মহারাজ ও সাধু-সন্ন্যাসীরা ক্ষুদিরামের স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতীকীভাবে ধান রোপণ করেন। এদিনও সেই প্রাচীন প্রথার ব্যতিক্রম হল না। ভক্ত ও স্থানীয় মানুষের উপস্থিতিতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান।

হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA




 

 rajesh pande