
হাফলং (অসম), ১৬ জুলাই (হি.স.) : রথযাত্রা উৎসবকে কেন্দ্র করে হাফলঙের ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দিরে উৎসবের আবহ বিরাজ করছে। মন্দির প্রাঙ্গণ রঙিন আলোকসজ্জা, ফুল, পতাকা ও নান্দনিক সাজসজ্জায় সুশোভিত করা হয়েছে। ভক্তদের আগমনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সমগ্র মন্দির চত্বরে এক আধ্যাত্মিক ও ভক্তিময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মন্দির পরিচালন সমিতি জানিয়েছে, রথযাত্রা উপলক্ষ্যে বিশেষ পূজা-অর্চনা, নামসংকীর্তন, ভজন, মহাপ্রসাদ বিতরণ এবং রথ টানার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার বিগ্রহ সুসজ্জিত করে রথে অধিষ্ঠাপন করা হয়। রথযাত্রা উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই শতাধিক ভক্ত মন্দিরে উপস্থিত হয়ে পূজা-অর্চনায় অংশগ্রহণ করে রথের দড়ি টেনে পুণ্যলাভ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি হাফলং শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও বিপুল সংখ্যক ভক্ত মন্দিরে সমবেত হয়েছেন। বিকেল চারটায় শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির থেকে ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার বিগ্রহ নিয়ে সুসজ্জিত রথ হাফলং শহর পরিক্রমা করে রামঠাকুর মন্দিরে পৌঁছে। সেখানে আগামী সাত দিন বিগ্রহগুলি প্রতিষ্ঠিত থাকবে। এই সময়ে রামঠাকুর মন্দিরে ভজন, কীর্তন সহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
রথযাত্রা উপলক্ষ্যে মন্দির কর্তৃপক্ষ ভক্তদের সুবিধার্থে পরিচ্ছন্নতা, পানীয় জলের ব্যবস্থা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য, রথযাত্রা হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসবে ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে সুসজ্জিত রথে অধিষ্ঠাপন করে ভক্তরা রথ টেনে আশীর্বাদ লাভ করেন। ভক্তি, ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে রথযাত্রা উৎসবের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব