৬৩০তম বর্ষে পদার্পণ, ঐতিহাসিক মাহেশ রথযাত্রার শুভ সূচনা, ভক্তদের ঢল
হুগলি , ১৬ জুলাই (হি.স.): দেশের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রাগুলির মধ্যে অন্যতম হুগলির মাহেশের জগন্নাথদেবের রথযাত্রার ৬৩০তম বর্ষে বৃহস্পতিবার জাঁকজমকপূর্ণভাবে শুভ সূচনা হল। ভোর থেকেই মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে। রাজ্যের বিভিন্ন প
শ্রীরামপুরে মাহেশের রথ


হুগলি , ১৬ জুলাই (হি.স.): দেশের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রাগুলির মধ্যে অন্যতম হুগলির মাহেশের জগন্নাথদেবের রথযাত্রার ৬৩০তম বর্ষে বৃহস্পতিবার জাঁকজমকপূর্ণভাবে শুভ সূচনা হল। ভোর থেকেই মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও দেবী সুভদ্রার দর্শন করতে ভিড় জমান।

রথযাত্রা উপলক্ষে বিশেষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সারা বছর গর্ভগৃহে বিরাজমান ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ মন্দিরের প্রধান প্রবেশদ্বারে এনে ভক্তদের দর্শনের জন্য স্থাপন করা হয়। ভক্তরা ফুল, বেলপাতা, চন্দনসহ বিভিন্ন পূজার সামগ্রী অর্পণ করে পুজো দেন। পরে তিন বিগ্রহকে ঐতিহ্যবাহী রথে আরোহন করিয়ে মাসির বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু হয়।

মন্দিরের সামনে জিটি রোডের ধারে অবস্থিত ঐতিহাসিক রথটি সারা বছর সংরক্ষিত থাকে। একসময় কাঠের রথ ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে প্রায় ১৪০ বছরের পুরনো মার্টিন অ্যান্ড বার্ন কোম্পানির নির্মিত লোহার রথ ব্যবহার করা হয়। প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতার এই রথে রয়েছে ৯টি চূড়া এবং ১২টি লোহার চাকা। বর্তমানে কলকাতার শ্যামবাজারের বসু পরিবার এই রথের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে। পুরীর পর মাহেশের রথযাত্রাকে দেশের দ্বিতীয় প্রাচীনতম রথযাত্রা হিসেবে গণ্য করা হয়।

রথের সামনে নির্মিত মূল মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জনস্বাস্থ্য কারিগরি (পিএইচই) ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী তথা শ্রীরামপুরের বিধায়ক ভাস্কর ভট্টাচার্য, উত্তরপাড়ার বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী, বিজেপির রাজ্য মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার, শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি সুমন ঘোষ, মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান সেবায়েত পিয়াল অধিকারী-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাধু-সন্তরা।

সন্ধ্যায় ধর্মীয় রীতি-নীতি মেনে এবং ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনির মধ্য দিয়ে হাজার হাজার ভক্তের উপস্থিতিতে রথের দড়িতে টান পড়ে। ঐতিহ্য মেনে ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে নিয়ে রথ মাসির বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। রথের পথজুড়ে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় এবং উৎসবমুখর পরিবেশে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

রথযাত্রা উপলক্ষে মন্দির সংলগ্ন স্নানপীঠি ময়দানে বসেছে বিশাল মেলা। সকাল থেকেই মন্দিরে পূজা-অর্চনা, ভক্তিমূলক সংগীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ভক্তদের জন্য মহাপ্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি বছর প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের প্রধান রথযাত্রা আয়োজক কমিটিগুলিকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করেছে। মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরও সেই অনুদান পেয়েছে। ফলে এবারের রথযাত্রাকে ঘিরে মন্দির প্রাঙ্গণ ও গোটা আয়োজনকে বিশেষভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। লক্ষাধিক ভক্তের নিরাপত্তা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA




 

 rajesh pande