
কলকাতা, ১৬ জুলাই (হি স): রাজ্যের অন্যতম আলোচিত প্রকল্প মিড-ডে মিল নিয়ে বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি স্কুলের মিড-ডে মিল প্রকল্প ইসকনের হাতে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের স্বপক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।
রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার একাধিক নীতিগত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত পদক্ষেপগুলির একটি হল সরকারি স্কুলের মিড-ডে মিল প্রকল্পের দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়া। এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে বিতর্ক শুরু হয়।
বিশেষ করে ইসকনের খাদ্যতালিকায় ডিম না থাকায় স্কুলপড়ুয়াদের পুষ্টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের একাংশের দাবি ছিল, ডিম বাদ গেলে শিশুদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেই বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
এই বিতর্কের মধ্যেই রথযাত্রার অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার জানান, স্কুলের মিড-ডে মিল প্রকল্পের মূল লক্ষ্য শুধু খাবার দেওয়া নয়, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করাও। তাঁর কথায়, একটা ভাল, পুষ্টিকর আহার পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমাদের স্কুলগুলিতে যে ছাত্রছাত্রীরা মিড-ডে মিল গ্রহণ করে, তারা মূলত মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের সন্তান। স্বচ্ছল পরিবারের শিশুদের অধিকাংশই এই প্রকল্পের উপর নির্ভর করে না। তাই অপুষ্টি দূর করতে পুষ্টিকর খাবারের বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি জোর দেন পরিচ্ছন্ন ও স্বচ্ছ উপায়ে খাবার প্রস্তুত ও বিতরণের উপর। তাঁর দাবি, এই প্রকল্পে দুর্নীতির কোনও জায়গা থাকা উচিত নয় এবং শিশুদের কাছে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পৌঁছে দেওয়াই সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
এই প্রসঙ্গেই পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে মিড-ডে মিল প্রকল্পকে ঘিরে নানা ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। তাঁর মতে, শিশুদের খাবার নিয়ে অনিয়ম কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে মিড-ডে মিল নিয়ে যে ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিশুদের খাবার নিয়ে অনিয়ম করা পাপের সমান। আগামী দিনে ইসকন এই দায়িত্ব পালন করে আমাদের শিশুদের কাছে উন্নত মানের পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেবে। সেটাই আমাদের কর্তব্য।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত