
জলপাইগুড়ি, ১৬ জুলাই (হি.স.): জলপাইগুড়িতে ‘সবার জন্য ঘর’ প্রকল্পে মারাত্মক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এল বৃহস্পতিবার। অভিযোগ উঠেছে, বহু উপভোক্তা সরকারি অনুদানের টাকা পকেটে পুরলেও ঘর তৈরির কাজ শুরুই করেননি। আবার কিছু ক্ষেত্রে ভুয়ো তথ্য দিয়ে ফাঁকা জমি দেখিয়ে পুরোনো বাড়ির ছাদের ওপর নতুন করে ঘর নির্মাণের মতো কারচুপির ঘটনাও ঘটেছে।
পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ থেকে ২০২১-২২ অর্থবর্ষের মধ্যে জলপাইগুড়িতে মোট ৮,০৩৮ জনকে বাড়ি তৈরির জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে ৬৩২ জন উপভোক্তা (যা মোট সংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ) প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পরও কোনো নির্মাণ কাজ শুরু করেননি। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২০১৫-১৬ সালে এই গরমিলের সংখ্যা মাত্র ৭টি ছিল, যা ২০১৮-১৯ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ২৪০টিতে এবং ২০২১-২২ সালে পৌঁছায় ২০২টিতে।
এই জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই পুরসভার বোর্ড বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং অভিযুক্ত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কয়েকজনকে ডেকে এনে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও অধিকাংশ উপভোক্তাই এখনও কোনো পদক্ষেপ করেননি।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, যে জমির নথিপত্র দেখিয়ে অনুদান নেওয়া হয়েছে, ঠিক সেই জমিতেই ঘর তৈরি করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক উপভোক্তাই এই নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন।
জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় এই বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যাঁরা এখনও ঘর তৈরির কাজ শুরু করেননি, তাঁদের বিরুদ্ধে এবার কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে। পাশাপাশি উপগ্রহ-চিত্রের মাধ্যমে অবস্থান যাচাইকরণে (জিও-ট্যাগিং) কোনো ধরনের অসঙ্গতি বা কারচুপি ধরা পড়লে পরবর্তী কিস্তির টাকা আটকে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে প্রদত্ত সরকারি টাকাও ফেরত নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, সরকারি প্রকল্পের অপব্যবহারকারীদের কোনো অবস্থাতেই রেয়াত করা হবে না।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি