
ঝাড়গ্রাম, ১৭ জুলাই (হি.স.): সীমিত পরিকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও জটিল মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচার করে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের নজির গড়ল ঝাড়গ্রাম সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। হাসপাতালের অস্থিরোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা. রঞ্জিত সাউয়ের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল গত ১৫ জুলাই ৩২ বছর বয়সি এক যুবকের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। বর্তমানে রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
চিকিৎসকদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে ওই যুবক তীব্র কোমরব্যথা, দুই পায়ে অবশভাব, ঝিনঝিন অনুভূতি, দুর্বলতা এবং হাঁটাচলায় সমস্যায় ভুগছিলেন। ধীরে ধীরে তাঁর মেরুদণ্ডেও বিকৃতি দেখা দেয়। হাসপাতালে ভর্তি করার পর একাধিক পরীক্ষায় ধরা পড়ে, মেরুদণ্ডের দ্বিতীয় কটিদেশীয় কশেরুকা (এল-২) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর জেরে স্নায়ুনালি সংকুচিত হয়ে স্নায়ুমূলে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে স্থায়ীভাবে হাঁটার ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা ছিল।
অস্ত্রোপচারের সময় ডি-১২ থেকে এল-৪ পর্যন্ত বিশেষ স্ক্রু বসিয়ে মেরুদণ্ডকে স্থিতিশীল করা হয়। একই সঙ্গে স্নায়ুর উপর থেকে চাপ কমিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হাড়ের পুনর্গঠনের কাজও সম্পন্ন করা হয়। চিকিৎসকদের দাবি, দীর্ঘ সময় রোগীকে অজ্ঞান অবস্থায় উপুড় করে রেখে এ ধরনের অস্ত্রোপচার অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। তবে অ্যানাস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, নার্সিং কর্মী এবং অপারেশন থিয়েটারের কর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সেই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।
শুক্রবার হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর রোগীর দুই পায়ের স্নায়ুর উপর চাপ অনেকটাই কমেছে এবং মেরুদণ্ডের বিকৃতিও উল্লেখযোগ্যভাবে সংশোধন করা গেছে। বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
ঝাড়গ্রাম সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. সুস্মিতা ভট্টাচার্য বলেন, সীমিত পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসক, অ্যানাস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ, নার্সিং কর্মী ও অপারেশন থিয়েটারের কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই জটিল অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। তাঁর মতে, জঙ্গলমহলের মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি হাসপাতালের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো