
আগরতলা, ১৭ জুলাই (হি.স.) : দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হল জনগণনা। সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াকে সফল করে তুলতে আগরতলা পুর নিগম এলাকার সকল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার।
শুক্রবার আগরতলা পুর নিগমের কনফারেন্স হলে জনগণনা বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের কমিশনার সাজু ওয়াহিদ, ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত এবং নিগমের অধিকাংশ কর্পোরেটর।
এদিন থেকেই রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে জনগণনার প্রথম পর্যায়। এই পর্যায়ে সেলফ এনুমারেশন বা স্ব-গণনার মাধ্যমে নাগরিকরা নিজেদের তথ্য অনলাইনে নির্দিষ্ট পোর্টালে জমা দিতে পারবেন। এই প্রক্রিয়া চলবে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত। স্ব-গণনার জন্য নির্ধারিত অনলাইন ফর্মে মোট ৩৪টি প্রশ্ন বা তথ্যের কলাম রয়েছে, যা পূরণ করার মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
বৈঠকে মেয়র দীপক মজুমদার বলেন, জনগণনা বা সেন্সাস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বিষয়। একটি সঠিক ও নির্ভুল জনগণনা ভবিষ্যতের পরিকল্পনা প্রণয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি বলেন, বিকশিত ভারত এবং বিকশিত ত্রিপুরা গড়ার ক্ষেত্রে জনগণনার তথ্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই এই প্রক্রিয়াকে সফল করতে জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা অপরিহার্য।
বৈঠকে জনগণনা চলাকালীন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের করণীয় বিষয়গুলি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, স্ব-গণনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং প্রয়োজনে নাগরিকদের সহায়তা করার জন্য কর্পোরেটরদের বিশেষ ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান মেয়র।
জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হবে আগামী ১ আগস্ট থেকে এবং চলবে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত। এই পর্যায়ে হাউস লিস্টিং বা বাড়ি তালিকাভুক্তিকরণের কাজ সম্পন্ন করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে রাজ্যজুড়ে প্রায় দুই হাজার এনুমারেটর বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করবেন।
প্রশাসনের মতে, জনগণনার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতের উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সরকারি পরিষেবার সুষ্ঠু বন্টনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই জনগণনার প্রতিটি পর্যায়ে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ