পঞ্চায়েত কর্মী ও জনপ্রতিনিধিরাই ‘চেঞ্জ মেকার’, মানুষের আস্থা অর্জনের উপর জোর মুখ্যমন্ত্রীর
আগরতলা, ১৭ জুলাই (হি.স.) : পঞ্চায়েতের কর্মী ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম কারিগর বা ‘চেঞ্জ মেকার’। তাঁদের দেশ গঠনের কাজে আরও বেশি মনোনিবেশ করার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দ
বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা


আগরতলা, ১৭ জুলাই (হি.স.) : পঞ্চায়েতের কর্মী ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম কারিগর বা ‘চেঞ্জ মেকার’। তাঁদের দেশ গঠনের কাজে আরও বেশি মনোনিবেশ করার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনই একজন জনপ্রতিনিধি ও কর্মীর সবচেয়ে বড় সম্পদ। শুক্রবার আগরতলায় এডি নগরের গ্রাম স্বরাজ ভবনে আয়োজিত পঞ্চায়েত দফতরের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী কিশোর বর্মন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত দফতরের শীর্ষ আধিকারিক, বিভিন্ন জেলার পঞ্চায়েত প্রতিনিধি, সরকারি কর্মী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণকারী ব্যক্তিরা।

এদিনের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ, সরকারি কর্মী এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণকারীদের মোট ৫১টি পুরস্কার প্রদান করা হয়। পঞ্চায়েত ব্যবস্থার উন্নয়ন, সুশাসন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনমুখী পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মানুষের আস্থাই সবচেয়ে বড় ভরসা। মানব সম্পদের মতো বড় সম্পদ আর কিছুই হতে পারে না। তাই গ্রাম গঠনের কাজে মানুষের বিশ্বাস যত বেশি অর্জন করা যাবে, ততই একটি টেকসই ও উন্নত ত্রিপুরা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”

তিনি পঞ্চায়েত কর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের নৈতিক দায়িত্ব ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন। তাঁদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “মনে রাখবেন, আপনারাই চেঞ্জ মেকার। সমাজ ও দেশের পরিবর্তনে আপনাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা শুধু প্রশাসনিক কাজ করছেন না, দেশ গড়ার কাজ করছেন।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, গ্রামীণ উন্নয়নের ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মানুষের প্রত্যাশাও বাড়ছে। সেই প্রত্যাশা পূরণে সেবামূলক মনোভাব, জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার উপর জোর দেন তিনি।

অন্যদিকে, অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পঞ্চায়েত মন্ত্রী কিশোর বর্মন বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশের গ্রামাঞ্চল নতুন শক্তি, নতুন প্রযুক্তি এবং নতুন দিশায় এগিয়ে চলেছে। বর্তমান সময়ে পঞ্চায়েত আর শুধুমাত্র রাস্তা বা পরিকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ, ডিজিটাল পরিষেবা প্রদান এবং নারী নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তিনি বলেন, “আজকের পঞ্চায়েত যুব সমাজকে কর্মসংস্থানের নতুন পথ দেখাচ্ছে, স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। এভাবেই পঞ্চায়েত আত্মনির্ভর ভারতের ভিত নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”

অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার পঞ্চায়েত ব্যবস্থার জাতীয় স্তরে অর্জিত বিভিন্ন সাফল্যের কথাও তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, রাজ্যের সিপাহীজলা জেলা ‘নানাজি দেশমুখ সর্বোত্তম জেলা পঞ্চায়েত’ পুরস্কার অর্জন করেছে। পাশাপাশি, পিএআই ২.০ সূচকে রাজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ পঞ্চায়েত ‘এ’ গ্রেড অর্জন করেছে, যা ত্রিপুরার গ্রামীণ প্রশাসনের সাফল্যের উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে চলেছে বলে অনুষ্ঠানে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande