ত্রিপুরায় বনাঞ্চলের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর হাতে ৩.৬০ কোটি টাকার তহবিল
আগরতলা, ১৭ জুলাই (হি.স.) : বনাঞ্চলে বসবাসকারী স্ব-সহায়ক গোষ্ঠীগুলিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে শুক্রবার রাজধানী আগরতলায় রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে প্রাথমিক তহবিল বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করে বন দফতর। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্ব-সহায়ক দলের সদ
বন দফতরের অনুষ্ঠানে বনমন্ত্রী


আগরতলা, ১৭ জুলাই (হি.স.) : বনাঞ্চলে বসবাসকারী স্ব-সহায়ক গোষ্ঠীগুলিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে শুক্রবার রাজধানী আগরতলায় রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে প্রাথমিক তহবিল বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করে বন দফতর। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্ব-সহায়ক দলের সদস্যদের হাতে মোট ৩ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার যুবকদের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্সও বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা। এছাড়াও বন দফতরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক, বিভিন্ন স্ব-সহায়ক গোষ্ঠীর সদস্য এবং বনাঞ্চলের বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

বন দফতর সূত্রে জানা গেছে, বনাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং জীবিকার নতুন সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষা, বনসৃজন এবং বনাঞ্চলের সুরক্ষায় স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইন্দো-জার্মান ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন-এর সহযোগিতায় একাধিক কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের বিভিন্ন বনাঞ্চল সংলগ্ন গ্রামে স্ব-সহায়ক গোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে এবং তাদের আর্থিকভাবে সক্ষম করে তোলার জন্য প্রাথমিক তহবিল প্রদান করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা বলেন, রাজ্যের বনাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জীবিকা নির্বাহের জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালু রয়েছে। স্ব-সহায়ক গোষ্ঠীগুলিকে শক্তিশালী করে তাদের আত্মনির্ভর করে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, বন রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের আর্থিক উন্নয়নকে যুক্ত করেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বনমন্ত্রী জানান, শনিবার রাজ্যভিত্তিক বনমহোৎসব পালিত হবে। তবে এবছর বন দফতর শুধুমাত্র নতুন বৃক্ষরোপণের উপর জোর না দিয়ে ‘ট্রি কেয়ার’ বা বৃক্ষ পরিচর্যা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তাঁর বক্তব্য, গত অর্থবছরে রাজ্যে প্রায় ২০ লক্ষ বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। তার আগের অর্থবছরে রোপণ করা হয়েছিল ১৫ লক্ষ গাছ। এত বিপুল সংখ্যক গাছের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাই এখন বন দফতরের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, শুধু গাছ লাগানোই নয়, লাগানো গাছকে বড় করে তোলা এবং সেগুলিকে টিকিয়ে রাখাই পরিবেশ রক্ষার প্রকৃত চ্যালেঞ্জ। তাই আগামী দিনে বন দফতর বৃক্ষ পরিচর্যা, বন সংরক্ষণ এবং বনাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়ন—এই তিনটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande