বিজেপি বিধায়কের অভিযোগে টালা প্রত্যয় দুর্গাপূজা কমিটির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের
কলকাতা, ২ জুলাই (হি.স.) : উত্তর কলকাতার অন্যতম চর্চিত পুজো কমিটি ‘টালা প্রত্যয়’ এক নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়ল। কাশীপুর-বেলগাছিয়ার ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে একটি খেলার মাঠের একাংশ বেআইনিভাবে দ
বিজেপি বিধায়কের অভিযোগে টালা প্রত্যয় দুর্গাপূজা কমিটির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের


কলকাতা, ২ জুলাই (হি.স.) : উত্তর কলকাতার অন্যতম চর্চিত পুজো কমিটি ‘টালা প্রত্যয়’ এক নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়ল। কাশীপুর-বেলগাছিয়ার ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে একটি খেলার মাঠের একাংশ বেআইনিভাবে দখল এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগে মামলা রুজু করল টালা থানার পুলিশ।

বিধায়ক তাঁর লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন, কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) সম্পত্তি টালা জিমখানা মাঠের প্রায় ২ বিঘা অংশ ২০১৮ সাল থেকে বেআইনিভাবে দখল করে রাখা হয়েছে। এই অভিযোগে পুজো কমিটির সঙ্গে যুক্ত ধ্রুবজ্যোতি বসু (শুভ)-র নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, মাঠের প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ সীমানা প্রাচীর বা চারদেওয়াল, লোহার মূল ফটক ও গ্রিল ভেঙে পুরসভার পার্ক ও উদ্যান বিভাগের জমির ওপর একটি ক্লাব ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, ‘টালা পার্ক অ্যাসোসিয়েশন’-এর নামে পুরসভার অন্য একটি সম্পত্তির ঠিকানা ব্যবহার করে প্রতারণামূলকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগও নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি অনুযায়ী, মাঠের একটি বড় অংশ বছরভর অস্থায়ী কাঠামো তৈরি, জিনিসপত্র মজুত রাখা এবং বিনোদন ও খেলাধুলো ছাড়া অন্য নানাবিধ কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়। এর ফলে স্থানীয় শিশু এবং সাধারণ মানুষ ওই খেলার মাঠের স্বাধীন ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিজেপি বিধায়কের আরও অভিযোগ, ক্লাব কর্তৃপক্ষ চারদেওয়ালের অংশ ভেঙে মাঠের ভেতরে একটি স্থায়ী ক্লাব কক্ষ তৈরি করে নিয়েছে। অন্যদিকে, ক্লাবের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের ভয়ে স্থানীয় বহু মানুষ নিজেদের অধিকার নিয়ে মুখ খুলতে বা মাঠ ব্যবহারের দাবি জানাতে ইতস্তত বোধ করেন।

বৃহস্পতিবার এই প্রসঙ্গে রীতেশ তিওয়ারি জানান, তিনি পুর কর্তৃপক্ষের কাছে ওই বেআইনি নির্মাণ অবিলম্বে ভেঙে ফেলার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, তালা পার্কে গড়ে ওঠা একাধিক কাঠামো এখন সমাজবিরোধীদের আড্ডায় পরিণত হয়েছে এবং সেগুলি দ্রুত সরানো দরকার। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পার্কের সীমানা ঘেঁষে থাকা কিছু দোকানের কোনো ব্যবসায়িক উপযোগিতা নেই। প্রয়োজন হলে সেই দোকানগুলিকে রাজা মণীন্দ্র স্ট্রিটে স্থানান্তরিত করা যেতে পারে।

অভিযোগপত্রে সুপ্রিম কোর্টের ‘ব্যাঙ্গালোর মেডিক্যাল ট্রাস্ট বনাম বিএস মুদ্দাপ্পা’ মামলার ঐতিহাসিক রায়ের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে যে, পাবলিক পার্ক এবং খেলার মাঠ হলো সামাজিক ও যৌথ সম্পত্তি, যা কেবল সাধারণ মানুষের স্বার্থেই ব্যবহার করা উচিত এবং এর কোনো ব্যক্তিগত ব্যবহার আইনত গ্রহণযোগ্য নয়।

বিধায়কের এই অভিযোগের ভিত্তিতে টালা থানার পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-র ১১১(৪), ২৭০, ২৮৭, ৩২৪(৩) এবং ৩২৯(৩) ধারায় মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগে পুরো বিষয়টির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande