
কলকাতা, ২ জুলাই (হি.স.) : মোটর ভেহিকেল অ্যাক্ট, ১৯৮৮ (মোটরযান আইন) লঙ্ঘনের অভিযোগে তৃণমূলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কলকাতার কালীঘাট থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পুলিশের পক্ষ থেকে এই খবরের সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গতিশীল গাড়ির ফুটরেস্টে (পাদানিতে) দাঁড়িয়ে তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা যাতায়াত করেন। এর ফলে সড়ক সুরক্ষার নিয়ম যেমন লঙ্ঘিত হচ্ছে, তেমনই সাধারণ মানুষের জীবনও বিপন্ন হচ্ছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মোটরযান আইনের ১২৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী চলন্ত গাড়িতে ঝুলে বা বিপজ্জনকভাবে যাতায়াত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অন্যদিকে, ১৮৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এই দুই আইনিভিত্তিতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ওই ব্যক্তি। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, তৃণমূলের এই নেতা ইতিমধ্যেই একাধিক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আতশকাঁচের তলায় রয়েছেন। কয়লা ও নিয়োগ দুর্নীতির মতো মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে। এছাড়াও, সই বিতর্ক এবং ৪ মে-র পর ডিজে বাজবে সংক্রান্ত মন্তব্যকে কেন্দ্র করেও তিনি অতীতে রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়েছিলেন।
এরই মধ্যে, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট বিজেপি নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র ছেলে আকাশ বিজয়বর্গীয়র দায়ের করা একটি মানহানির মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাওয়া অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
পাশাপাশি, তাঁর নিজস্ব লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারে চালু করা সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগ 'সেবাশ্রয়'-কে ঘিরেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আদালত চূড়ান্ত রায় দেয়নি।
মোটরযান আইন লঙ্ঘনের এই নতুন মামলায় কালীঘাট থানায় এফআইআর দায়ের হওয়া প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি