
কলকাতা, ২ জুলাই (হি.স.): তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ওপর ডেবিট নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলায় বৃহস্পতিবার বেসরকারি ব্যাংক এবং পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকটিকে অ্যাকাউন্টের সম্পূর্ণ বিবরণ দিয়ে বিস্তারিত হলফনামা দাখিল করার এবং পুলিশকে এই মামলার তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে, আপাতত এই অ্যাকাউন্টগুলির ওপর থেকে ডেবিট নিষেধাজ্ঞা সরানোর বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি দেয়নি আদালত। ফলে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
আগামী ৭ জুলাইয়ের মধ্যে ব্যাংক ও পুলিশ— উভয় পক্ষকেই যথাক্রমে হলফনামা এবং তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসেই পুলিশের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ব্যাংকটি তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ওপর ডেবিট নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মূলত দুটি ঘটনার পরিপ্রক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। প্রথমত, তৃণমূলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস— যিনি বর্তমানে দল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ গোষ্ঠী-র সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে, তিনি তহবিলের অপব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করে ব্যাংককে চিঠি দিয়েছিলেন এবং অ্যাকাউন্ট তিনটি ফ্রিজ করার অনুরোধ করেছিলেন।
এরপর এই গোষ্ঠীরই বেশ কয়েকজন তৃণমূল বিধায়ক পুলিশের কাছে একই দাবি জানান। এই অভিযোগগুলির ভিত্তিতেই পুলিশ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকটিকে ওই অ্যাকাউন্টগুলির ওপর ডেবিট নিষেধাজ্ঞা জারির নির্দেশ দেয়। জানা গেছে, এই তিনটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা জমা রয়েছে।
এই ঘটনার পরই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের মূল গোষ্ঠীটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়।
বৃহস্পতিবার মামলার বিস্তারিত শুনানির পর, আদালত ব্যাংককে অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য হলফনামার মাধ্যমে জমা দিতে এবং পুলিশকে তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেয়। আগামী শুনানিতে ব্যাংক ও পুলিশের দেওয়া রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি