
ঝাড়গ্রাম, ২ জুলাই (হি.স.) : জাল উত্তরাধিকারী শংসাপত্র তৈরি করে কৃষকদের জমি হাতিয়ে নেওয়ার বহুল আলোচিত পাথরা জমি জালিয়াতি মামলায় প্রতারিতদের আইনি সহায়তা দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিল ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ। বুধবার থেকে সাঁকরাইল ব্লকের পাথরা গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে শুরু হয়েছে দু'দিনের বিশেষ আইনি শিবির। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিবিরে পাঁচজন আইনজীবী ও চারজন অধিকার মিত্র জমির নথি যাচাই এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের কাজ করছেন। যাঁদের জমি প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের নামে রেজিস্ট্রি হয়ে গিয়েছে, তাঁদের আইনি লড়াইয়ে সহায়তা করতেই এই উদ্যোগ।
জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব তথা বিচারক রিহা ত্রিবেদী জানান, প্রতারিত জমির মালিকদের হয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মামলা করা হবে। বর্তমানে যাঁদের নামে জমির দলিল রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধেই দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করা হবে।
তিনি জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আয়োজিত একটি আইনি সচেতনতা শিবিরের পর ১২৫ জন ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকের মধ্যে সাতজন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এবার বাকি জমির মালিকদেরও আইনি সহায়তার আওতায় আনতে তাঁদের এলাকাতেই এই বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম দিনে ৫৫টি এবং দ্বিতীয় দিনে আরও ৬৬টি মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সাঁকরাইলের পাথরা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাঁকড়া এলাকায় বড়সড় জমি জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ, জীবিত ব্যক্তিদের মৃত দেখিয়ে ভুয়ো উত্তরাধিকারী শংসাপত্র তৈরি করে প্রায় ১২৫ জন কৃষকের প্রায় ৪০০ একর জমি, বসতবাড়ি, গ্রাম পঞ্চায়েতের সম্পত্তি এবং কর্মতীর্থের জমি অন্যের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়।
ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়। ইতিমধ্যে মূল অভিযুক্ত-সহ মোট নয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁরা বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন এবং ঝাড়গ্রাম আদালতে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো