তারাতলা-কাণ্ডে নজিরবিহীন পদক্ষেপ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের
কলকাতা, ২ জুলাই (হি.স.): কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ চায়ের গুদাম ভেঙে ৫ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। ওই মর্মান্তিক বিপর্যয় নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করেছে কমিশন। ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি, নিহত ও
তারাতলা দুর্ঘটনা


কলকাতা, ২ জুলাই (হি.স.): কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ চায়ের গুদাম ভেঙে ৫ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। ওই মর্মান্তিক বিপর্যয় নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করেছে কমিশন।

ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি, নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের খতিয়ান চেয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

নকশায় মারাত্মক ত্রুটি! নজরে মানবাধিকার কমিশন। এই বড়সড় বিপর্যয় নিয়ে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকে ভিত্তি করেই ময়দানে নেমেছে এনএইচআরসি।

কমিশনের পর্যবেক্ষণ:

মানবাধিকার লঙ্ঘন: যদি প্রকাশিত খবর সত্য হয়, তবে এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা। কর্মস্থলে শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের, যেখানে স্পষ্ট গাফিলতি দেখা গেছে।

ভুল নকশার অভিযোগ: প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, যে গুদামটির ছাদ ভেঙে পড়েছে, তার অনুমোদিত নির্মাণ পরিকল্পনা বা সাইট প্ল্যানেই মারাত্মক কারিগরি ত্রুটি ছিল। এই অভিযোগ কতটা সত্যি, তা রাজ্য সরকারের রিপোর্টে স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তাদের নোটিশে রাজ্য প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী ১৪ দিনের মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উত্তর দিতে হবে—

১) দুর্ঘটনার পর পুলিশের এফআইআর এবং তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি কী?

২) নিহতদের পরিবার এবং আহত শ্রমিকদের রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে কিনা?

৩) দোষীদের বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?

প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুন কলকাতার তারাতলা এলাকায় একটি বেসরকারি নির্মীয়মাণ গুদামের বিশাল লোহা ও কংক্রিটের কাঠামোয় ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। সেই সময় প্রায় ৪০ জন শ্রমিক সেখানে কর্মরত ছিলেন। আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে পুরো ছাদ ও লোহার শেড। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন বহু শ্রমিক।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত




 

 rajesh pande