
জলপাইগুড়ি, ২ জুলাই (হি. স.) : ক্লাস চলাকালীন আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল স্কুলের ছাদের একাংশ। তবে ক্লাসে উপস্থিত শিক্ষিকার অসীম সাহসিকতা ও চটজলদি সিদ্ধান্তের কারণে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে চার পড়ুয়া। বৃহস্পতিবার চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি মহকুমার অন্তর্গত মাগুরমারী-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের জলঢাকা গিরিবর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এই ঘটনার পর স্কুল চত্বরে জড়ো হয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকেরা।
স্থানীয় ও স্কুল সূত্রে জানা গেছে, এদিন যথারীতি ক্লাসে পঠনপাঠন চলছিল। ঠিক সেই সময়ই আচমকা ক্লাসরুমের ছাদ থেকে কংক্রিটের একটি বড় চাঙড় ভেঙে নিচের বেঞ্চের ওপর পড়ে। পরিস্থিতির গুরুত্ব ও বিপদ বুঝে ক্লাসে থাকা শিক্ষিকা এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে অত্যন্ত তৎপরতার সাথে বাচ্চাদের টেনে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান। তাঁর এই উপস্থিত বুদ্ধি ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই এক বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাদের অভিযোগ, স্কুলের এই ভবনটি দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এর আগেও মাঝেমধ্যে ছাদ থেকে ছোট ছোট কংক্রিটের টুকরো খসে পড়েছে। এই বিষয়ে স্কুল পরিদর্শক (এসআই) দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হলেও আজ পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়েই দলে দলে অভিভাবকেরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছুটে আসেন এবং প্রশাসনিক গাফিলতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন। ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের প্রশ্ন, এই দুর্ঘটনায় যদি কোনো শিশুর প্রাণ চলে যেত, তবে তার দায় কে নিত?
এই বিষয়ে ধূপগুড়ির বিডিও সোমনাথ হালদার জানান, পুরো বিষয়টি ইতিমধ্যেই স্কুল পরিদর্শককে জানানো হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে স্কুল ভবনটি দ্রুত সংস্কার করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি