জিরাটে তৈরি হচ্ছে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ ফুটের মূর্তি, ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাজ্য সরকারের
হুগলি, ২ জুলাই (হি.স.): ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর পৈতৃক ভিটে বলাগড়ের জিরাটে এক বিশাল মূর্তি স্থাপনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকারের তরফে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা
ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়


হুগলি, ২ জুলাই (হি.স.): ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর পৈতৃক ভিটে বলাগড়ের জিরাটে এক বিশাল মূর্তি স্থাপনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকারের তরফে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে শুধুমাত্র ১২৫ ফুট উঁচু মূর্তির নির্মাণই নয়, সঙ্গে থাকছে একটি আধুনিক সংগ্রহশালা (মিউজিয়াম), অডিটোরিয়াম এবং গ্রন্থাগার সংস্কারের একগুচ্ছ পরিকল্পনা।

প্রশাসন সূত্রের খবর, মূর্তি ও সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক আধিকারিকরা জিরাটের তিনটি সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছেন। প্রস্তাবিত মিনি বন্দর প্রকল্পের পর এই মূর্তিটি জিরাটের নতুন ল্যান্ডমার্ক তথা এক অনন্য পরিচিতি হয়ে উঠতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বর্তমানে জিরাট বাস স্ট্যান্ড এবং অসম লিঙ্ক রোডের আশেপাশের এলাকাকে মূর্তি নির্মাণের উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বলাগড়ের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সুমনা সরকার এই উপলক্ষে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বংশধরদের সঙ্গে নিয়ে অসম লিঙ্ক রোড সহ একাধিক এলাকা ঘুরে দেখেন। এই প্রকল্পের আওতায় স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় বিদ্যালয় এবং গ্রন্থাগারের সংস্কারের পাশাপাশি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে একটি নতুন পাঠাগার তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও, তাঁর ভাই বামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়িটিকে সংগ্রহশালায় রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং জিরাট হাসপাতালের নাম পরিবর্তনের একটি প্রস্তাবও বর্তমানে প্রশাসনের বিবেচনাধীন রয়েছে।

রাজ্য সরকারের এই বৃহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সম্ভাব্য সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বংশধর বাণীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং তাঁর নাতনি দীপান্বিতা মুখোপাধ্যায়।

বাণীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা জানতে পেরেছি যে সরকার আমাদের পৈতৃক বাড়িটি অধিগ্রহণ করে সেখানে সংগ্রহশালা তৈরি করবে। এই মহৎ কাজে সব ধরনের সহযোগিতা করতে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। অন্যদিকে, দীপান্বিতা মুখোপাধ্যায় আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, একটা সময় আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ইতিহাসকে জিরাট-বলাগড় থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। রাজ্যে পালাবদলের পর সরকার যে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।

বিধায়ক তথা মন্ত্রী সুমনা সরকার এই বিষয়ে জানান, মুখোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তাঁদের সম্পত্তি সরকারিভাবে অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াটি বিবেচনা করা হচ্ছে এবং বামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িটিকে একটি দৃষ্টিনন্দন সংগ্রহশালা হিসেবেই গড়ে তোলা হবে। উল্লেখ্য, বিগত বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের পর, এবার সেই প্রতিশ্রুতিকেই বাস্তবে রূপ দিতে কোমর বেঁধে নামল প্রশাসন। সরকারের এই ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দর ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই নতুন আশার আলো দেখছেন জিরাটের সাধারণ মানুষ।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande