
আগরতলা, ২ জুলাই (হি.স.) : জিবিপি হাসপাতালের ফ্যাকাল্টি ও কর্তব্যরত চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের ত্রিপুরা সরকারের সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক ও স্বাস্থ্য মহল। এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবিতে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিকর্তার কাছে সাত দফা দাবি-সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেছে সারা ভারত গণতান্ত্রিক নারী সমিতি-র ত্রিপুরা রাজ্য শাখা। সংগঠনের অভিযোগ, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে জিবিপি হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার সংগঠনের এক প্রতিনিধি দল স্বাস্থ্য অধিকর্তার দফতরে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেয়। প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজ্য নেত্রী কৃষ্ণা রক্ষিত-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। স্মারকলিপিতে প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি জিবিপি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবার পরিকাঠামো উন্নয়ন, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের নিয়মিত সরবরাহ এবং রোগী পরিষেবার মানোন্নয়নের দাবিও উত্থাপন করা হয়।
ডেপুটেশন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কৃষ্ণা রক্ষিত বলেন, সরকারের হঠাৎ নেওয়া এই সিদ্ধান্ত বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর অভিযোগ, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করেই প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করায় জিবিপি হাসপাতালের পরিষেবায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বহির্বিভাগ ও বিভিন্ন বিভাগে রোগীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে, চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করলেই স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতি হয় না। হাসপাতালের অবকাঠামো, জনবল, শয্যা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা এবং চিকিৎসকদের কর্মপরিবেশের উন্নয়ন নিশ্চিত না করলে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে না। তাই রোগীদের স্বার্থে রাজ্য সরকারের উচিত সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করে চিকিৎসক সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা।
উল্লেখ্য, প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গণসংগঠন সরব হয়েছে। বৃহস্পতিবার এসইউসিআই একই ইস্যুতে স্বাস্থ্য অধিকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। ফলে বিষয়টি এখন রাজ্যের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার মহাকরণে চিকিৎসকদের তিনটি সংগঠনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্যে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ) ত্রিপুরা রাজ্য শাখা, ডক্টরস টিচার্স ফোরাম এবং অল ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা।
বৈঠকের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হলেও সূত্রের খবর, চিকিৎসকদের বিভিন্ন দাবি, কর্মপরিবেশ, পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যা এবং প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। সরকার ও চিকিৎসক সংগঠনগুলির মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করার চেষ্টা চলছে বলেও জানা গেছে।
রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তকে ঘিরে চিকিৎসক সংগঠন, রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন গণসংগঠনের ধারাবাহিক তৎপরতায় আগামী দিনে এই ইস্যু আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ