
গণ্ডাছড়া (ত্রিপুরা), ২ জুলাই (হি.স.) : ধলাই জেলার গণ্ডাছড়ার নারিকেলকুঞ্জের হেলিপেড মাঠে বৃহস্পতিবার বর্ণাঢ্য আয়োজনে তৃতীয় রাজ্যভিত্তিক আম উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। একদিনের এই উৎসবের উদ্বোধন করেন রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী রতনলাল নাথ। চারা গাছে জল সিঞ্চনের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করার পাশাপাশি তিনি কৃষকদের সুবিধার্থে একটি আধুনিক কোল্ড চেম্বারেরও উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আম উৎপাদনে ভারত বিশ্বের প্রথম স্থানে রয়েছে। দেশে হেক্টরপ্রতি আমের গড় উৎপাদন প্রায় ৯.৫ মেট্রিক টন হলেও গণ্ডাছড়া এলাকায় হেক্টরপ্রতি প্রায় ৯ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়, যার মধ্যে শুধু গণ্ডাছড়া এলাকাতেই প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। ফলে এই অঞ্চল রাজ্যের অন্যতম প্রধান আম উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।
মন্ত্রী বলেন, আম চাষিদের উৎপাদিত ফলের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করা এবং আয় বৃদ্ধি করাই রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যেই গণ্ডাছড়ায় আধুনিক কোল্ড চেম্বার স্থাপন করা হয়েছে। এই সংরক্ষণাগারে ১০-১২ দিন পর্যন্ত আম ও অন্যান্য ফল সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এর ফলে কৃষকদের আর তাড়াহুড়ো করে কম দামে ফল বিক্রি করতে হবে না; বাজার পরিস্থিতি অনুকূল হলে পরে বিক্রির সুযোগ মিলবে এবং লাভও বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, ত্রিপুরার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে রাজ্যের বিখ্যাত ‘ক্যুইন’ আনারসকে কেন্দ্র করে মূল্য সংযোজনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এই আনারস থেকে প্রসাধনী সামগ্রী এবং উন্নতমানের তন্তু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্যুইন আনারস রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভবিষ্যতে রাজ্যে আম, আনারসসহ অন্যান্য ফলের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ডুম্বুর জলাশয়ের জল ব্যবহার করে ১১ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন (ডিপিআর) প্রস্তুত করা হচ্ছে। একইসঙ্গে কৃষকদের পতিত জমি ফেলে না রেখে হলুদ, আদা এবং বিভিন্ন ফলের চাষে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক নন্দিতা দেববর্মা (রিয়াং) বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ উন্নয়নসহ সমাজের সব স্তরের মানুষের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। কৃষকদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তুলতে সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
প্রাক্তন সাংসদ রেবতী মোহন ত্রিপুরাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। তিনি কৃষি ও উদ্যানপালন খাতের বিকাশে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের প্রতি আরও উৎসাহিত হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রইস্যাবাড়ি ব্লক উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান প্রদীপ কুমার জমাতিয়া। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উদ্যান ও ভূমি সংরক্ষণ দফতরের অধিকর্তা ডঃ ফণীভূষণ জমাতিয়া।
আম উৎসব উপলক্ষ্যে মোট ৩৫টি প্রদর্শনী স্টল খোলা হয়। এসব স্টলে বিভিন্ন জাতের আম, ফল প্রক্রিয়াকরণ, উদ্যানপালন প্রযুক্তি, কৃষি যন্ত্রপাতি এবং সরকারি বিভিন্ন কৃষি সহায়ক প্রকল্পের তথ্য তুলে ধরা হয়। উৎসবে বিপুল সংখ্যক কৃষক, উদ্যানপালক, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। কৃষকদের সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মতবিনিময় এবং আধুনিক ফলচাষ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এই উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আয়োজকদের আশা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ