পুরসভা বা পঞ্চায়েত আর দিতে পারবে না জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র, নিয়ম বদলে কড়া পদক্ষেপ নবান্নের
কলকাতা, ২৩ জুলাই (হি. স. ) : জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র দেওয়ার নিয়মে বড় ধরনের বদল আনল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বৃহস্পতিবার মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত প্রধানেরা আর জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র জারি করতে পারবেন না।
মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল


কলকাতা, ২৩ জুলাই (হি. স. ) : জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র দেওয়ার নিয়মে বড় ধরনের বদল আনল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বৃহস্পতিবার মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত প্রধানেরা আর জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র জারি করতে পারবেন না। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি এখন থেকে কেবল নির্দিষ্ট ও অনুমোদিত সরকারি আধিকারিকদের হাতেই ন্যস্ত থাকবে।

মুখ্যসচিব জানান, রাজ্যজুড়ে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র বিলিতে ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় বহু ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র ধরা পড়ে। এছাড়া নির্বাচনের পরেও এই নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠে আসে এবং পুলিশেও বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের হয়। জন্ম শংসাপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি হওয়া সত্ত্বেও নিয়মের তোয়াক্কা না করে জালিয়াতি করা হচ্ছিল এবং ভুয়ো শংসাপত্র ব্যবহার করে অনেকে সরকারি সুবিধাও নিচ্ছিলেন।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৯৯৭ সাল থেকে জারি হওয়া সমস্ত জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র পুনর্মূল্যায়ন বা ফের যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এর ভিত্তিতে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেস তৈরি করা হবে, যা কেন্দ্রীয় সরকারের পোর্টালের সঙ্গেও যুক্ত থাকবে। এই কাজের জন্য বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা চালানো হবে। যাদের বৈধ শংসাপত্র থাকবে না, শুনানির পর তাঁদের নতুন শংসাপত্র দেওয়া হবে এবং ভুয়ো শংসাপত্র বাতিল করে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। মুখ্যসচিব স্পষ্ট জানান, কোনো অবৈধ বিদেশি নাগরিক রাজ্যে থাকতে পারবে না।

শংসাপত্র যাচাইয়ের পুরো কাজটি শুধুমাত্র স্থায়ী সরকারি আধিকারিকেরা করবেন এবং কোনো চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে এই দায়িত্বে রাখা হবে না। প্রক্রিয়ায় কোনো আধিকারিক অনিয়ম করলে তাঁর বিরুদ্ধেও কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে শংসাপত্র দুর্নীতি ও জালিয়াতির তদন্তে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজ্যজুড়ে অভিযানে নেমেছে পুলিশ। কলকাতা সহ বিভিন্ন জেলার পুরসভা ও পঞ্চায়েত কার্যালয়ে গিয়ে জন্ম-মৃত্যুর রেজিস্টার খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande