
চুড়াইবাড়ি (ত্রিপুরা), ২৩ জুলাই (হি.স.) : সরকারি ছুটির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উত্তর ত্রিপুরা জেলার চুড়াইবাড়ি থানার অন্তর্গত বাঘন উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুঃসাহসিক চুরি। গভীর রাতে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের জানালার লোহার রড ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। একের পর এক আলমারি ও লকারের তালা ভেঙে সরকারি কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিক সরঞ্জামসহ বিভিন্ন সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও এলোমেলো করে রেখে যাওয়ায় প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার নিয়মিত পাঠদান শেষে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীরা অফিসে তালা লাগিয়ে বাড়ি ফিরে যান। পরদিন খার্চি পূজা উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি থাকায় বিদ্যালয় সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। সেই সুযোগেই রাতের অন্ধকারে পরিকল্পিতভাবে চুরির ঘটনা ঘটানো হয় বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় স্টাফ রুমের ভেতরে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলতে দেখে সন্দেহ করেন। পরে বিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করে তাঁরা দেখতে পান অফিস কক্ষের জানালার লোহার রড ভাঙা এবং ভেতরের আসবাবপত্র ও নথিপত্র লণ্ডভণ্ড অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল কালামকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে তিনি দ্রুত বিদ্যালয়ে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, প্রায় সব আলমারি ও লকারের তালা ভাঙা এবং সরকারি কাজে ব্যবহৃত একাধিক মূল্যবান সামগ্রী নিখোঁজ। ঘটনার পরপরই চুড়াইবাড়ি থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে এবং আশপাশের তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল কালাম বলেন, বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোনও নাইট গার্ড নেই। একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নাইট গার্ড নিয়োগের আবেদন জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, বিদ্যালয়ে রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে হয়তো এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।
সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই সরকারি সম্পত্তি বারবার চোরের নিশানায় পরিণত হচ্ছে। অবিলম্বে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, চুরি হওয়া সরকারি সামগ্রী উদ্ধার, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং বিদ্যালয়ে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, পুলিশের তদন্তে দ্রুত প্রকৃত অপরাধীরা শনাক্ত হবে এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ