
দুর্গাপুর, ২৩ জুলাই(হি. স.): সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে অন্ডালে। এবার প্রতারণার অভিযোগ তুললেন অন্ডালের শ্রীরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন তৃণমূল প্রধান প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল। তাঁর অভিযোগ, সরকারি চাকরি দেওয়ার নাম করে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে মোট ১৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
প্রিয়াঙ্কা মণ্ডলের অভিযোগ, ২০২২ সালে আসানসোলের সাকতোড়িয়ার বাসিন্দা জয়দেব বাউরি, তন্ময় বাউরি এবং অন্ডালের দক্ষিণখণ্ডের এক বাসিন্দা তাঁকে খাদ্য দফতরে এবং তাঁর ভাই সুপ্রিয় মণ্ডলকে আবগারি দফতরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সেই প্রতিশ্রুতিতে তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে মোট ১৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
চাকরির প্রক্রিয়াকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে তাঁকে কলকাতার ধর্মতলায় খাদ্য দফতরের একটি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি প্রিয়াঙ্কার। সেখানে প্রশিক্ষণ, ইন্টারভিউ-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রক্রিয়ার আয়োজন করা হয়। এমনকি তাঁর হাতে নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্রও তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। একইভাবে তাঁর ভাইকেও ওই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
কিন্তু পরে সংশ্লিষ্ট দফতরে খোঁজ নিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, প্রশিক্ষণ, ইন্টারভিউ, নিয়োগপত্র থেকে শুরু করে সমস্ত নথিই ভুয়ো বলে অভিযোগ। প্রিয়াঙ্কা মণ্ডলের দাবি, গোটা প্রক্রিয়াটিই ছিল একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণার ফাঁদ।
টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিলে অভিযুক্তরা ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার একটি চেক দেন বলেও অভিযোগ করেছেন প্রিয়াঙ্কা। তবে ব্যাঙ্কে চেক জমা দিতে গিয়ে সেটিও জাল বলে জানতে পারেন বলে তাঁর দাবি। দক্ষিণখণ্ডের ওই অভিযুক্তের কাছে টাকা ফেরত চাইতে গেলে এলাকার এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তাঁকে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার যোগ থাকতে পারে বলেও দাবি তাঁর।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হলে বড় প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। অন্ডালের বিজেপি নেতা রাখালচন্দ্র দাস বলেন, “ক্ষমতায় থাকাকালীন তৃণমূল শুধু সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের নয়, নিজেদের দলের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে। এই ঘটনাই তার জ্বলন্ত উদাহরণ। আমরা ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছি।”
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা