
দুর্গাপুর, ২৩ জুলাই (হি. স.): অসুস্থ স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার সহায়তার টাকা ঢোকেনি। সেই বিষয়ে খোঁজ নিতে দুর্গাপুর পুরসভায় গিয়ে এক পুরকর্মীর দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুললেন এক বাসিন্দা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শহরে।
নিগৃহীত ওই ব্যক্তির নাম শিবকুমার মণ্ডল। দুর্গাপুরের বাসিন্দা শিবকুমারের দাবি, একাধিকবার প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাঁর অসুস্থ স্ত্রী অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন না। সমস্যা সমাধানের জন্য তাঁকে বারবার পুরসভায় আসতে হচ্ছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও সদুত্তর মেলেনি বলে অভিযোগ।
শিবকুমার মণ্ডল বলেন, “আমি স্বল্প বেতনের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। আমার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তাঁর চিকিৎসা এবং সংসারের খরচ চালাতে যথেষ্ট আর্থিক সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। সেই কারণে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়ার আশায় বারবার দুর্গাপুর পুরসভায় এসে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু প্রতিবারই কোনও না কোনও কারণে আবেদনপত্র গ্রহণ করা হচ্ছে না।”
তাঁর অভিযোগ, “বহুবার অফিসে আসতে গিয়ে আমাকে কাজ থেকে ছুটি নিতে হয়েছে। এতে যেমন আয়ের ক্ষতি হচ্ছে, তেমনই অসুস্থ স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে বারবার দফতরে আসাও অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।”
অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বৃহস্পতিবার পুরসভায় গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিবকুমার। সেই সময় পুরকর্মী স্বপ্নেন্দু ভৌমিকের সঙ্গে তাঁর বচসা বাধে। শিবকুমারের অভিযোগ, ওই পুরকর্মী তাঁকে আঙুল তুলে হুঁশিয়ারি দেন। কথোপকথনের একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিও ঘিরে নানা মহলে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপির জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল বলেন, “আমাদের সরকার এই ধরনের ঘটনা বরদাস্ত করবে না। আমরা বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানাব।”
অভিযোগের বিষয়ে পুরসভা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখনও জানা যায়নি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা