
আগরতলা, ২৩ জুলাই (হি.স.) : দুই বছরের বকেয়া অবিলম্বে পরিশোধের দাবিতে বৃহস্পতিবার ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেড (টিএসইসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)-এর কাছে স্মারকলিপি জমা দিল টিএসইসিএল কন্ট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দ্রুত দাবি পূরণ না হলে রাজ্যজুড়ে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্ত চুক্তিভিত্তিক কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন ঠিকাদাররা।
সংগঠনের অভিযোগ, গত দুই বছর ধরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সম্পন্ন করলেও অধিকাংশ ঠিকাদারের বিল এখনও মেটানো হয়নি। ফলে তাঁরা চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন। ঠিকাদারদের দাবি, লক্ষ লক্ষ টাকার বকেয়া আটকে থাকায় একদিকে যেমন ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে তাঁদের অধীনে কর্মরত শ্রমিকদের মজুরিও নিয়মিত পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বিদ্যুৎ নিগমের এমডি-র সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করা হলেও কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। এমডি-র কাছে একাধিকবার লিখিতভাবে আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথ এবং মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার কাছেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সমস্যার কোনও কার্যকর সমাধান হয়নি বলে দাবি সংগঠনের।
বৃহস্পতিবার এমডি-র কাছে স্মারকলিপি প্রদান শেষে সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক স্বপন দাস জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিল বকেয়া থাকায় অধিকাংশ ঠিকাদার কার্যত দেউলিয়া হওয়ার পরিস্থিতিতে পৌঁছে গেছেন। শ্রমিকদের বেতন, ব্যাঙ্কের ঋণ, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক খরচ বহন করা তাঁদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই বহু ঠিকাদার ইতিমধ্যে কাজ বন্ধ রেখেছেন।
তিনি বলেন, অবিলম্বে বকেয়া পরিশোধ, বিল নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ-সহ চার দফা দাবি দ্রুত কার্যকর না হলে আগামী দিনে রাজ্যব্যাপী সমস্ত চুক্তিভিত্তিক বিদ্যুৎ পরিষেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ রাখা হবে। সেই সঙ্গে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হবে।
সংগঠনের দাবি, বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ১০০ জন ঠিকাদার টিএসইসিএল-এর বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছেন। তাঁদের অধীনে প্রায় এক হাজার শ্রমিক কর্মরত। দীর্ঘদিন বিল আটকে থাকায় শুধু ঠিকাদাররাই নন, ওই বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ঠিকাদারদের আশঙ্কা, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত রাজ্যের সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের উপরও পড়তে পারে। তবে ঠিকাদারদের এই অভিযোগের বিষয়ে টিএসইসিএল কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ