গুজরাটে মুষলধারে বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন, একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি
আহমেদাবাদ/গান্ধীনগর, ২৪ জুলাই (হি. স.): টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত গুজরাটের জনজীবন। দক্ষিণ গুজরাটের একাধিক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, সেনা এবং ভারতীয় বায়ুসেনার দল মোতায়েন করা হয়েছে। ভারতীয় আবহাও
গুজরাটে মুষলধারে বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন, একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি


আহমেদাবাদ/গান্ধীনগর, ২৪ জুলাই (হি. স.): টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত গুজরাটের জনজীবন। দক্ষিণ গুজরাটের একাধিক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, সেনা এবং ভারতীয় বায়ুসেনার দল মোতায়েন করা হয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) একাধিক জেলায় লাল ও কমলা সতর্কতা জারি করেছে।

শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাজ্যের ২৫০টি তালুকে বৃষ্টিপাত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে পাটান জেলার রাধনপুরে—প্রায় ১০ মিমি । সান্তলপুরে ৯ মিমি এবং ভাভর ও দিওদরে প্রায় ৭ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও ১৬টি তালুকে ৩ থেকে ৬ মিমি এবং ৯০টি তালুকে ১ থেকে ২ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

দক্ষিণ গুজরাটে বন্যা পরিস্থিতি এখনও গুরুতর। সুরাট থেকে ২টি এবং নভসারি থেকে ৪টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মৃতদের বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। নভসারি জেলায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, বিশেষ সামরিক দল এবং ভারতীয় বায়ুসেনার সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। গণদেবী তালুকের ভাট গ্রামের কাছে একটি চিংড়ি খামারে আটকে পড়া ৩০ জনেরও বেশি মানুষকে ভারতীয় বায়ুসেনার হেলিকপ্টারে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যায় এক হাজারেরও বেশি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

জামনগর জেলার কালাওয়াড় এলাকায় জলের তোড়ে আটকে পড়া একটি গাড়িকে গ্রামবাসীরা ট্র্যাক্টর ও দড়ির সাহায্যে উদ্ধার করেন। অন্যদিকে, রাজকোট জেলার জাতীয় সড়ক থেকে ভীরপুর যাওয়ার পথে বন্যার জলে একটি গাড়ি ভেসে যাওয়ার পর দুই ব্যক্তির সন্ধান চলছে।

ভারী বৃষ্টির জেরে আহমেদাবাদ-রাজকোট জাতীয় সড়কের বাওলার কাছে ব্যাপক জল জমে যায়। এর ফলে বাগোদরা থেকে সানথল পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গ্যালপস পার্ক এলাকায় বন্যার জলে আটকে পড়া প্রায় ৯০০ জনকে পুলিশ ও এসডিআরএফের দল নিরাপদে উদ্ধার করেছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন যানবাহনকে ভেজলকা হয়ে ধোলেরা এক্সপ্রেসওয়ের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।

আহমেদাবাদ শহরেও একাধিক এলাকায় জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খোখরা জাদেজা কর্নারের কাছে জলে আটকে পড়া একটি বাস থেকে দমকলের কর্মীরা ৫৫ জন যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। নিকোল এলাকার মধুমালতি আবাসন প্রকল্পে এক হাজারেরও বেশি মানুষ জলবন্দি হয়ে পড়েছেন। শেলা এলাকায় একাধিক গাড়ি জলের তলায় চলে গিয়েছে। শহরের ১৭টি আন্ডারব্রিজের মধ্যে ৯টি খুলে দেওয়া হলেও ৮টি এখনও বন্ধ রয়েছে।

আইএমডি আহমেদাবাদ, মোরবি, বানাসকাঁঠা, মেহসানা এবং আনন্দ-সহ ১০টি জেলায় অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনায় লাল সতর্কতা জারি করেছে। সুরাট, কচ্ছ, রাজকোট, সাবরকাঁঠা, পঞ্চমহল এবং ভদোদরা-সহ ১৬টি জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি করে আগামী দু’দিন মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সৌরাষ্ট্রের বৃহত্তম শেত্রুঞ্জি বাঁধ দ্বিতীয়বারের জন্য উপচে পড়েছে। জলস্তর নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাঁধের ২০টি গেট এক ফুট করে খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তালাজা ও পালিতানা এলাকার ১৭টি গ্রামকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের জেরে আহমেদাবাদ পুরনিগম ২৫ জুলাই শহরের সমস্ত সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও বেসরকারি স্কুল এবং কলেজে ছুটি ঘোষণা করেছে। পুরনিগম পরিচালিত সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রও ২৭ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল গান্ধীনগরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের পর্যালোচনা করেন। জলমগ্ন এলাকাগুলিতে দ্রুত পদক্ষেপ করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালকও সমস্ত জেলার পুলিশ আধিকারিকদের ত্রাণ, উদ্ধার এবং যান চলাচল ব্যবস্থা নিয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande