ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সরব রাহুল, পেলেট গানে আহত পড়ুয়াকে সামনে এনে সরকারের বিরুদ্ধে তোপ
নয়াদিল্লি, ২৪ জুলাই (হি.স.): কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ফের সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শুক্রবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের সামনে তিনি দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের উপর পুলিশ অতিরিক
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সরব রাহুল, পেলেট গানে আহত পড়ুয়াকে সামনে এনে সরকারের বিরুদ্ধে তোপ


নয়াদিল্লি, ২৪ জুলাই (হি.স.): কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ফের সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শুক্রবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের সামনে তিনি দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের উপর পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। একইসঙ্গে, পেলেট গানের আঘাতে চোখে গুরুতর চোট পাওয়া এক যুবককে সামনে এনে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি।

রাহুল গান্ধী দাবি করেন, ২০ জুলাই দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় ১৯ বছরের সাহিল নামে ওই যুবকের মুখে পেলেট গানের আঘাত লাগে। তাঁর এক চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও দাবি করেন রাহুল। তিনি জানান, সাহিল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া এবং পরিবারের আর্থিক সহায়তার জন্য পার্ট-টাইম গাড়ি চালান।

রাহুলের দাবি, ২০২৫ সালের এসএসসি দিল্লি কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের শিকার হয়েছিলেন সাহিলও। একই ভেন্ডরকে ফের পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়ায় ভবিষ্যতে আবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হতে পারে বলে আশঙ্কা থেকেই তিনি বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন রাহুল।

সাংবাদিকদের সামনে সাহিলকে পাশে বসিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, “ও শান্তিপূর্ণভাবে তেরঙ্গা হাতে প্রতিবাদ করছিল। তখনই তাঁর উপর পেলেট গান ব্যবহার করা হয়। এখন সে এক চোখে দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “সরকার বলছে, পেলেট গান ব্যবহার করা হয়নি। কিন্তু এই যুবক তার প্রমাণ। হাজার হাজার যুবকের উপর লাঠিচার্জ করা হয়েছে, পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে এবং তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। তাঁরা কী করছিলেন? তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছিলেন।”

রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর পরিশ্রম করে পুলিশ নিয়োগ-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। তাঁর দাবি, “যাঁদের কাছে প্রশ্নপত্র কেনার জন্য ৬০-৭০ লক্ষ টাকা ছিল না, তাঁদের ভবিষ্যৎ যেন তাঁদের নিজেদের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া এই সমস্যার শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

রাহুল বলেন, “পড়ুয়ারা শুধু জবাবদিহি চাইছে। তাঁরা একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরীক্ষা ব্যবস্থা চাইছে। তাঁদের প্রশ্ন করার জন্য এবং জবাবদিহি দাবি করার জন্য শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।”

আন্দোলনকারীদের তিনটি দাবির কথা তুলে ধরে লোকসভার বিরোধী দলনেতা বলেন, প্রথমত, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, পড়ুয়াদের উপর লাঠিচার্জ ও পেলেট গান ব্যবহারের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে পড়ুয়াদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

রাহুল গান্ধী বলেন, “শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতেই হবে। তিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পতনের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না।”

তিনি আরও বলেন, “যথেষ্ট হয়েছে। পড়ুয়াদের প্রশ্ন করার জন্য ভয় দেখানো বন্ধ করতে হবে। আমরা সাহিলের পাশে আছি। আমরা জবাবদিহির দাবিতে আন্দোলন করা প্রতিটি পড়ুয়ার পাশে আছি।”

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande