
আগরতলা, ১০ আগস্ট (হি.স.) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’র মাধ্যমে ত্রিপুরার বিমান, রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। আর যোগাযোগ ব্যবস্থার এই উন্নতির সুফল এবার পৌঁছে যাচ্ছে রাজ্যের কৃষি ও জৈব কৃষি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারেও। ত্রিপুরায় উৎপাদিত বিভিন্ন জৈব কৃষি পণ্যের গুণমান ও সম্ভাবনাকে বিশ্বের বাজারে তুলে ধরতে সোমবার ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় একটি বেসরকারি হোটেলে অনুষ্ঠিত হলো আন্তর্জাতিক জৈব কৃষি পণ্যের ক্রেতা-বিক্রেতা সম্মেলন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথ। অনুষ্ঠানে বিদেশের বিভিন্ন দেশের মোট ৫১ জন ক্রেতা অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের সামনে রাজ্যের বিভিন্ন জৈব কৃষি পণ্য, উৎপাদন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানির সম্ভাবনা তুলে ধরেন কৃষিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, ত্রিপুরার অর্থনীতিতে কৃষি ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রাজ্যের জিএসডিপিতে কৃষি খাতের অবদান প্রায় ৪৮ শতাংশ। পাশাপাশি পরিষেবা খাতের অবদান প্রায় ৪১ শতাংশ। ফলে রাজ্যের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে কৃষি ক্ষেত্রের গুরুত্ব অপরিসীম বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’র ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ত্রিপুরাতেও বিমান, রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে। এর ফলে রাজ্যে উৎপাদিত কৃষি ও জৈব কৃষি পণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ত্রিপুরার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ। পাশাপাশি রাজ্যের সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশও বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। এই অনুকূল পরিবেশের কারণে ত্রিপুরায় উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষি ও জৈব কৃষি পণ্যের প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক ক্রেতা-বিক্রেতা সম্মেলনে বিদেশি ক্রেতাদের সামনে ত্রিপুরার জৈব কৃষি পণ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। রাজ্যের মাটি ও জলবায়ুর বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষিজ পণ্যের গুণমান, উৎপাদন পদ্ধতি এবং বাজারজাতকরণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। একইসঙ্গে স্থানীয় উৎপাদক ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয় এই সম্মেলনের মাধ্যমে।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিদেশি ক্রেতারাও ত্রিপুরার জৈব কৃষি পণ্যের উচ্চ প্রশংসা করেন। পণ্যের গুণমান ও বৈচিত্র্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের চাহিদা রয়েছে বলেও তাঁরা জানান। তাঁদের আগ্রহকে রাজ্যের কৃষকদের জন্য নতুন বাজার তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে ত্রিপুরার কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তারা নতুন বাজারের সন্ধান পেতে পারেন। পাশাপাশি জৈব কৃষি পণ্যের উৎপাদন ও রফতানি বাড়লে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং রাজ্যের কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পথও প্রশস্ত হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে ত্রিপুরার জৈব কৃষি পণ্যের পরিচিতি বাড়াতে এই ক্রেতা-বিক্রেতা সম্মেলন তাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ