ডিমা হাসাওয়ে রাস্তার ধারে রান্না ও প্রকাশ্যে আবর্জনা ফেলা নিষিদ্ধ
হাফলং (অসম), ১০ আগস্ট (হি স) পরিবেশ সুরক্ষা, জননিরাপত্তা এবং অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে ডিমা হাসাও জেলাজুড়ে রাস্তার ধারে, ভিউপয়েন্ট, লে-বাই, খোলা জায়গা এবং অন্যান্য জনসাধারণের স্থানে রান্না ও খাবার প্রস্তুত করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল জেলা প্রশাস
ডিমা হাসাওয়ে রাস্তার ধারে রান্না ও প্রকাশ্যে আবর্জনা ফেলা নিষিদ্ধ


হাফলং (অসম), ১০ আগস্ট (হি স) পরিবেশ সুরক্ষা, জননিরাপত্তা এবং অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে ডিমা হাসাও জেলাজুড়ে রাস্তার ধারে, ভিউপয়েন্ট, লে-বাই, খোলা জায়গা এবং অন্যান্য জনসাধারণের স্থানে রান্না ও খাবার প্রস্তুত করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল জেলা প্রশাসন। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস), ২০২৩-এর ১৬৩ ধারায় জারি করা এক নির্দেশে ডিমা হাসাওয়ের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তথা জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির চেয়ারম্যান গায়ত্রী দেবীদাস হাইলিঙ্গে ওই সমস্ত স্থানে রান্না বা গরম করার কাজে এলপিজি সিলিন্ডার, কেরোসিন ও কয়লার উনুন, জ্বালানি কাঠ, বারবিকিউ গ্রিল এবং অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

নির্দেশটি বিশেষভাবে ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের (ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর) মান্দারডিসা–হারাঙ্গাজাও অংশ এবং ১৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কের মাহুর–হাংগ্রুম অংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর পাশাপাশি জেলার অন্যান্য জনসাধারণের রাস্তা ও স্থানেও এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। জেলা প্রশাসনের মতে, পর্যটক ও দর্শনার্থীদের রাস্তার ধারে রান্না করার প্রবণতার ফলে খাবারের উচ্ছিষ্ট, প্লাস্টিক, বোতল, ডিসপোজেবল প্লেট এবং বিভিন্ন ধরনের প্যাকেটজাত সামগ্রী যত্রতত্র ফেলে দেওয়ার ঘটনা বেড়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে জনসাধারণের অসুবিধা তৈরি হচ্ছে এবং যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। ফেলে রাখা খাবারের বর্জ্যে পথের পশুর আনাগোনাও বাড়ছে। পাশাপাশি ডিমা হাসাওয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশের উপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রশাসন একই সঙ্গে রাস্তা ও অন্যান্য জনসাধারণের স্থানে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পর্যটক ও দর্শনার্থীদের নিজেদের বর্জ্য সঙ্গে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে শুধুমাত্র অনুমোদিত সংগ্রহস্থল বা নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনসাধারণের এসব স্থানে মদ্যপানও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের নির্দেশে নির্দিষ্ট কিছু ছাড় রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বা উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত নির্দিষ্ট পিকনিক স্পট বা অন্যান্য স্থানে, যেখানে রান্নার অনুমতি রয়েছে এবং পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, পরিবহণ, বন, পর্যটন, পূর্ত, আবগারি দফতর এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে কঠোর নজরদারি ও প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী মামলা ও অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande