দশকের পর দশক পরে গঙ্গার উজানে ফিরল ইলিশ, চাঁদৌলিতে মিলল জোড়া মাছ
নয়াদিল্লি, ১২ আগস্ট (হি.স.): কয়েক দশক ধরে গঙ্গার উজানের অংশ থেকে কার্যত হারিয়ে গিয়েছিল ইলিশ। সেই ইলিশই ফের মিলল উত্তর প্রদেশের চাঁদৌলি জেলার টান্ডা খুর্দ গ্রামের কাছে। গঙ্গার বাস্তুতন্ত্র, জলজ জীববৈচিত্র্য এবং নদীনির্ভর মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জ
দশকের পর দশক পরে গঙ্গার উজানে ফিরল ইলিশ, চাঁদৌলিতে মিলল জোড়া মাছ


নয়াদিল্লি, ১২ আগস্ট (হি.স.): কয়েক দশক ধরে গঙ্গার উজানের অংশ থেকে কার্যত হারিয়ে গিয়েছিল ইলিশ। সেই ইলিশই ফের মিলল উত্তর প্রদেশের চাঁদৌলি জেলার টান্ডা খুর্দ গ্রামের কাছে। গঙ্গার বাস্তুতন্ত্র, জলজ জীববৈচিত্র্য এবং নদীনির্ভর মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জন্য এই ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একসময় বঙ্গোপসাগর থেকে গঙ্গা নদী ধরে ইলিশের যাতায়াত ছিল বারাণসী, প্রয়াগরাজ এবং তারও উজান পর্যন্ত। কিন্তু ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা ব্যারাজ চালু হওয়ার পর ইলিশের স্বাভাবিক গতিপথে বড় বাধা তৈরি হয়। এর ফলে মধ্য ও উজান গঙ্গায় ইলিশের সংখ্যা দ্রুত কমতে থাকে।

ইলিশের সংরক্ষণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ২০১৯ সাল থেকে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি চালাচ্ছে আইসিএআর-সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিআইএফআরআই), ব্যারাকপুর এবং ন্যাশনাল মিশন ফর ক্লিন গঙ্গা। ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ বুধবার জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এই কর্মসূচির আওতায় গঙ্গায় ৩.৮৫ লক্ষেরও বেশি কিশোর ও পূর্ণবয়স্ক ইলিশ ছাড়া হয়েছে। পাশাপাশি ৪০ লক্ষেরও বেশি নিষিক্ত ডিমও নদীতে ছাড়া হয়েছে।

গবেষণা সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৯.৪ লক্ষ হ্যাচারিতে উৎপাদিত স্পনও গঙ্গায় ছাড়া হয়েছে। ইলিশের গতিবিধি বোঝার জন্য মাছের শরীরে ট্যাগ লাগিয়ে নজরদারি চালানো হয়েছে। কৃত্রিম প্রজনন এবং মাছের সংখ্যা বাড়ানোর বিভিন্ন পদ্ধতিও ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নজরদারির আওতায় থাকা ছাড়া ইলিশ মির্জাপুর পর্যন্ত উজানে পৌঁছেছিল। এবার চাঁদৌলিতে দুটি ইলিশের সন্ধান মেলায় ঐতিহাসিক বিচরণক্ষেত্র পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। দুটি মাছের মোট ওজন ৭৪০ গ্রাম বলে জানা গিয়েছে।

ইলিশ একটি সংবেদনশীল পরিযায়ী মাছ। তাই গঙ্গার উজানে তার উপস্থিতিকে নদীর জলপ্রবাহের সংযোগ, জলজ পরিবেশের গুণমান এবং সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের উন্নতির গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইসিএআর-সিআইএফআরআইয়ের অধিকর্তা ড. প্রদীপ দে বলেন, মৎস্যসম্পদের পুনরুদ্ধারকে বৃহত্তর পরিবেশগত পুনরুদ্ধার এবং টেকসই জীবিকার অংশ হিসেবে দেখতে হবে। এর জন্য মাছের পরিযান, নদীর বাসস্থান, জীববৈচিত্র্য, জল ব্যবস্থাপনা এবং মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের প্রয়োজন—সবকিছুকেই একসঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে।

ইলিশের এই প্রত্যাবর্তনে নদীনির্ভর মানুষের কাছে মাছের জোগান এবং জীবিকার সুযোগ বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গঙ্গার অন্যান্য দেশীয় ও পরিযায়ী জলজ প্রজাতি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande