
ভোপাল, ১৪ আগস্ট (হি.স.) : ভোপাল রিয়াসতের শেষ নবাব হামিদুল্লা খানের স্ত্রী আফতাব জাহান বেগমের বিক্রি করা সম্পত্তি নিয়ে তদন্ত জোরদার করেছে অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখা (ইওডব্লিউ)। এই তদন্তের আওতায় অভিনেতা সইফ আলি খান এবং তাঁর পরিবারও রয়েছেন। প্রায় ১,৩৭০ একর জমি সংক্রান্ত মূল নথি সইফ আলি খানের কাছে চেয়েছে ইওডব্লিউ।
প্রধানমন্ত্রী দফতর এবং ইওডব্লিউয়ের মহাপরিচালকের কাছে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযোগে ভোপালের প্রাক্তন নবাবি সম্পত্তির মালিকানা, ক্রয়-বিক্রয় এবং সেগুলিকে ‘শত্রু সম্পত্তি’ হিসেবে নথিভুক্ত করার বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
ইওডব্লিউ ভোপাল সমাজকর্মী অমিতাভ অগ্নিহোত্রীকে প্রমাণ পেশ করার জন্য তলব করেছিল। অমিতাভ তাঁর আইনজীবী প্রশান্ত পাণ্ডের সঙ্গে লিখিত প্রমাণ ও বিভিন্ন নথি তদন্তকারী সংস্থার কাছে জমা দিয়েছেন। ভোপালের কোহেফিজা, নয়াপুরা এবং হালালপুর এলাকায় থাকা নবাবি সম্পত্তি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আইনি বিতর্ক রয়েছে। রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতরের কাছেও এই বিষয়ে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছিল।
এর পরেই পুরো নবাব পরিবার তদন্তের আওতায় এসেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সইফ আলি খান, সোহা আলি খান, সাবা আলি খান এবং শর্মিলা ঠাকুর। অভিযোগে বলা হয়েছে, সইফ আলি খান উচ্চ আদালতে প্রায় ১,৩৭০ একর জমিকে নবাবের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এখন ওই জমির বর্তমান অবস্থান ও মালিকানা স্পষ্ট করার জন্য তদন্ত কমিটির কাছে দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নবাব হামিদুল্লা খানের বড় মেয়ে পাকিস্তানে চলে যাওয়ায় তাঁর সম্পত্তির একটি অংশ ‘শত্রু সম্পত্তি’ হিসেবে ঘোষিত হয়েছিল। সেই সম্পত্তির পরবর্তী মালিকানা, ব্যবহার এবং হস্তান্তরের বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
অভিযোগকারীর দাবি, সইফ আলি খান উচ্চ আদালতে প্রায় ১,৩৭০ একর জমিকে নবাবের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে উল্লেখ করেছিলেন। এখন তদন্তকারী সংস্থার সামনে প্রশ্ন হল, ওই জমির বর্তমান মালিকানা কী এবং জমিগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত মূল নথি কোথায় রয়েছে। কোহেফিজা, নয়াপুরা ও হালালপুর-সহ ভোপালের বিভিন্ন এলাকায় থাকা নবাবি সম্পত্তির নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ১৯৫৯ সালের রাজস্ব নথিতে আফতাব জাহান বেগমের নামে বেহটায় প্রায় ৬৫৫ একর এবং বোরবনে প্রায় ১০২ একর জমি নথিভুক্ত ছিল। অভিযোগ, পাকিস্তানি নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য গোপন করে ওই সম্পত্তিগুলির কেনাবেচা করা হয়েছিল। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯৪ সালের ৩১ মে বেহটার প্রায় ৩০.৫৫ একর জমি একটি সমবায় গৃহনির্মাণ সংস্থার কাছে ৩০.৫৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করার নথি রয়েছে। এর মধ্যে ১.৫৫ লক্ষ টাকা চেকের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল। বাকি ২৯ লক্ষ টাকা চারটি কিস্তিতে দেওয়ার চুক্তি হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইওডব্লিউয়ের কাছে করা অভিযোগে কাস্টডিয়ান বিভাগ, মুম্বই এবং ভোপাল কালেক্টরের নির্দেশে নেওয়া পদক্ষেপগুলিও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। ২০২১ এবং ২০২২ সালে নবাব পরিবারের কয়েকটি সম্পত্তিকে ‘শত্রু সম্পত্তি’ হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি ১৯৪৯ সালের ২৯ এপ্রিল বি.পি. মেননের স্বাক্ষর করা নকশা, ৩০ এপ্রিলের মার্জার এগ্রিমেন্ট এবং ১ জুন ১৯৪৯-এর আগে তৈরি সম্পত্তির তালিকার মূল কপিও চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগে প্রাক্তন ভোপাল রিয়াসতের প্রায় ২,৫৫৬টি গ্রামে ছড়িয়ে থাকা নবাব পরিবারের জমিরও বিস্তারিত তদন্তের দাবি করা হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যসচিবের একটি রিপোর্টের উল্লেখ করে অভিযোগে বলা হয়েছে, মার্জার এগ্রিমেন্টে প্রায় ১,৩৯৫ একর জমির উল্লেখ ছিল। অথচ নয়টি গ্রামে অতিরিক্ত ১,৯৮৪.১৩ একর জমি নবাব পরিবারের নামে নথিভুক্ত হয়। এই অতিরিক্ত জমির মালিকানা এবং পরবর্তী ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি করা হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য