খাড়গের সভার পর ‘শুদ্ধিকরণ’ ঘিরে কংগ্রেসের ক্ষোভ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চায় দল
নয়াদিল্লি, ১৩ আগস্ট (হি.স.): উত্তরাখণ্ডের হালদোয়ানিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সভার পর রামলীলা ময়দানে কথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির কাছে জবাব চাইল কংগ্রেস। উত্তরাখণ্ডের কংগ
খাড়গের সভার পর ‘শুদ্ধিকরণ’ ঘিরে কংগ্রেসের ক্ষোভ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চায় দল


নয়াদিল্লি, ১৩ আগস্ট (হি.স.): উত্তরাখণ্ডের হালদোয়ানিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সভার পর রামলীলা ময়দানে কথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির কাছে জবাব চাইল কংগ্রেস। উত্তরাখণ্ডের কংগ্রেসের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কুমারী শৈলজা অভিযোগ করেন, এই ঘটনা বিজেপির ‘দলিত-বিরোধী মানসিকতা’র প্রকাশ। ঘটনায় এখনও এফআইআর দায়ের না হওয়াও উদ্বেগজনক বলে দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে ওই অনুষ্ঠান আয়োজকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান শৈলজা।

দলের সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে শৈলজা বলেন, উত্তরাখণ্ডে নির্বাচন এগিয়ে আসছে। আর নির্বাচনের সময় বিজেপি এ ধরনের ‘শরারত’ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিজেপি সরাসরি এ ধরনের কাজ না করলেও দলের ‘ফ্রিঞ্জ এলিমেন্ট’-কে সামনে রেখে নিজেদের মানসিকতার প্রকাশ ঘটায়।

তিনি বলেন, দেহরাদূনে রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচি হয়েছিল। সেটি ব্যর্থ করার চেষ্টা করা হলেও বিজেপি সফল হয়নি। একইভাবে হালদোয়ানিতেও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সভা বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে সভা সফলভাবেই সম্পন্ন হয়।

শৈলজা বলেন, হালদোয়ানির রামলীলা ময়দানে খড়্গে সভায় বক্তব্য রাখার পর ওই একই জায়গায় ‘শুদ্ধিকরণ’ করা হয়। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনা বিজেপির দলিত-বিরোধী মানসিকতার প্রমাণ। ঘটনায় এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, এমনকি এফআইআরও দায়ের হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির কাছে এই বিষয়ে জবাব দাবি করেন তিনি।

উত্তরাখণ্ড কংগ্রেস সভাপতি গণেশ গোদিয়ালও হালদোয়ানির ঘটনার নিন্দা করেন। তিনি বলেন, সেখানে যা হয়েছে, তা বিজেপির মানসিকতার পরিচয়। যে মঞ্চে কংগ্রেস সভাপতি খাড়গে বক্তব্য রেখেছিলেন, সেটিই পরে ‘শুদ্ধিকরণ’ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

গোদিয়াল বলেন, কংগ্রেস এই ঘটনার প্রতিবাদ করছে। দলের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত সংগঠনকে এই মনোভাবের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে প্রতিবাদ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তফসিলি জাতির মানুষদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিজেপির মনে থাকা কথিত বিদ্বেষ তাঁরা দেখেছেন এবং এই ধরনের অপমানকে কোনওভাবেই সমর্থন করা উচিত নয়।

উত্তরাখণ্ড বিধানসভায় কংগ্রেস পরিষদীয় দলের নেতা যশপাল আর্য বলেন, হালদোয়ানির রামলীলা ময়দানে যেভাবে হোম-যজ্ঞ করে ‘শুদ্ধিকরণ’ করা হয়েছে, তাতে বিজেপির ‘আসল চেহারা’ সামনে এসেছে। তিনি ঘটনাটিকে বিদ্বেষের রাজনীতি এবং ‘বিকৃত মানসিকতা’র উদাহরণ বলে অভিহিত করেন।

আর্য বলেন, মল্লিকার্জুন খাড়গের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন রয়েছে। সামাজিক ন্যায় এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষায় তিনি কাজ করেছেন। তাঁর সঙ্গে যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটে, তাহলে উত্তরাখণ্ড-সহ দেশের অন্যান্য প্রান্তে দলিতদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

উল্লেখ্য, গত ৮ আগস্ট হালদোয়ানির রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের ‘বিজয় শঙ্খনাদ র্যালি’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর দু’দিন পর, ১০ আগস্ট একই মাঠে ‘শ্রী রাম সেনা ধর্মার্থ সেবা ন্যাস’-এর উদ্যোগে হোম-যজ্ঞ ও কথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান হয়। সেই অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের রূপ নেয়।

কংগ্রেসের অভিযোগ,খাড়গে দলিত হওয়ার কারণেই তাঁকে ঘিরে এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে এবং এর মধ্যে জাতিগত বৈষম্যের মানসিকতা রয়েছে। দলটি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, অনুষ্ঠান আয়োজক ধর্মীয় সংগঠনের দাবি, কংগ্রেসের সভায় কথিত স্লোগান ও মন্তব্যের প্রতিবাদেই এই অনুষ্ঠান করা হয়েছিল।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande