
নয়াদিল্লি, ১৪ আগস্ট (হি.স.): জনগণনা ২০২৭-এর দ্বিতীয় পর্যায় অর্থাৎ জনসংখ্যা গণনার জন্য শুক্রবার ৪০টি প্রশ্নের একটি প্রশ্নমালার বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় সরকার। এই পর্যায়ে দেশের জনসংখ্যা গণনা করা হবে। প্রথমবার জনগণনার আওতায় জাতি-সম্পর্কিত তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। প্রশ্নমালায় নাগরিকদের ব্যক্তিগত, সামাজিক, শিক্ষাগত এবং আর্থিক তথ্য-সংক্রান্ত প্রশ্ন রাখা হয়েছে। কোভিড-১৯ টিকাকরণ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আধার, ভোটার পরিচয়পত্র-সহ বিভিন্ন তথ্যও চাওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও জনগণনা কমিশনারের দফতর থেকে শুক্রবার জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জনগণনা আধিকারিকদের পরিবারের কাছ থেকে ৪০টি বিষয়ের তথ্য সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত এলাকার মধ্যে বসবাসকারী ব্যক্তিদের কাছে পরিবারভিত্তিক প্রশ্নমালার মাধ্যমে এই তথ্য জানতে পারবেন জনগণনা আধিকারিকরা। প্রশ্নমালায় ব্যক্তির নাম, পরিবারের প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক, লিঙ্গ, জন্মতারিখ ও বয়স, বৈবাহিক অবস্থা, বিয়ের সময় বয়স, স্বামী বা স্ত্রীর নাম এবং ঘোষিত জাতীয়তা-সহ একাধিক তথ্য চাওয়া হবে।
এছাড়াও ধর্ম, তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি ও জাতি, বাবা-মায়ের পরিচয়, প্রতিবন্ধকতা, মাতৃভাষা ও অন্যান্য ভাষার জ্ঞান, সাক্ষরতা এবং ডিজিটাল সাক্ষরতা সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে পড়াশোনা করছেন কি না, সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বিষয় বা শাখা সম্পর্কেও প্রশ্ন থাকবে।
কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে গত এক বছরে কোনও সময় কাজ করেছেন কি না, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধরন, পেশা, শিল্প-বাণিজ্য বা পরিষেবার প্রকৃতি এবং কর্মীর শ্রেণি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে। কর্মহীন এবং প্রান্তিক ও অর্ধ-প্রান্তিক কর্মীদের ক্ষেত্রে তাঁদের অ-অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, কাজের সন্ধান করছেন কি না এবং কাজের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন কি না, সেই তথ্যও নেওয়া হবে।
প্রশ্নমালায় কর্মস্থলে যাতায়াতের ধরন, জন্মস্থান, পূর্ববর্তী বাসস্থান, স্থান পরিবর্তনের কারণ, আগের বাসস্থান থেকে বর্তমান গ্রাম বা শহরে আসার পর কতদিন ধরে বসবাস করছেন এবং স্থায়ী ঠিকানা সম্পর্কেও প্রশ্ন রয়েছে। বর্তমানে বিবাহিত, বিধবা, বিবাহবিচ্ছিন্না এবং পৃথক বসবাসকারী মহিলাদের ক্ষেত্রে জীবিত সন্তানের সংখ্যা এবং জীবনে মোট কতবার জীবিত সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, সেই তথ্যও জানতে চাওয়া হবে।
এছাড়া কোভিড-১৯ টিকাকরণের স্থান, মোট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা, মোবাইল নম্বর এবং আধার নম্বর, যদি থাকে, তা চাওয়া হবে। ভোটার পরিচয়পত্র নম্বর, ভারতীয় পাসপোর্ট থাকলে পাসপোর্ট নম্বর এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে কি না, সেই তথ্যও প্রশ্নমালার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, জনগণনা ২০২৭ দুই পর্যায়ে সম্পন্ন হবে। প্রথম পর্যায়ে বাড়ির তালিকাকরণ ও আবাসন গণনা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে জনসংখ্যা গণনা করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত প্রশ্নমালাই দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রতিটি ব্যক্তি ও পরিবারের সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষাগত এবং জনমিতিক তথ্য সংগ্রহের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য