
দুর্গাপুর, ১৬ আগস্ট (হি. স.): কাঁকসার প্রত্যন্ত সাতকাহনিয়া গ্রামের মঞ্চ এবার পৌঁছে গেল জাতীয় স্বীকৃতির আলোয়। গ্রামীণ ছেলেমেয়েদের নিয়ে দীর্ঘদিনের নাট্যচর্চা এবং নাট্যশিক্ষায় অনন্য অবদানের জন্য সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কার পেলেন ‘তেপান্তর’-এর কর্ণধার কল্লোল ভট্টাচার্য। গত ১৩ আগস্ট দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে তিনি এই সম্মান গ্রহণ করেন।
কল্লোলের নাট্যযাত্রার শুরু ১৯৯৪ সালে। কাঁকসার বনকাটি পঞ্চায়েতের সাতকাহনিয়া গ্রামে ‘এবং আমরা’ নামে নাটকের দল গড়ে শুরু করেছিলেন পথচলা। পরে ১৯৯৯ সালে গড়ে ওঠে ‘তেপান্তর’—একটি নাটকের গ্রাম। দিনমজুর পরিবারের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে শুরু হওয়া সেই নাট্যচর্চাই ধীরে ধীরে পৌঁছেছে দেশের নানা প্রান্তে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩০টি নাট্যপ্রযোজনা মঞ্চস্থ করেছে তেপান্তর। জার্মানি, রাশিয়া ও বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন দেশের নাট্যদলও এখানে এসে নাট্যচর্চায় অংশ নিয়েছে।
নাটককে শুধু মঞ্চের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে প্রায় দেড় বছর আগে গড়ে তোলা হয়েছে ‘নাট্য পাঠশালা’। সেখানে গ্রামের ছেলেমেয়েদের বিনামূল্যে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বর্তমানে নিয়মিত প্রায় ৫০ জন শিশু-কিশোর নাট্যচর্চা করছে।
স্বাধীনতা দিবসে ‘বন্দেমাতরম’-এর দেড়শো বছর পূর্তি উপলক্ষে নাট্য পাঠশালার শিল্পীরা ‘আজও তারা জ্বলছে’ নাটক মঞ্চস্থ করে। খুদে শিল্পীদের অভিনয়ও দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
কল্লোল ভট্টাচার্যের কথায়, গ্রামীণ এলাকার ছেলেমেয়েদের সংস্কৃতিমনস্ক করে তোলা এবং নাটক ও সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ তৈরি করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। তাঁর এই সম্মাননায় স্বাভাবিকভাবেই গর্বিত তেপান্তরের শিল্পী থেকে নাট্যপ্রেমীরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা