
বাঁকুড়া, ১৯ আগস্ট (হি. স.): ঘুমিয়ে থাকা নদীর ভয়াল ,বিধ্বংসী রূপ।এর ফলে জেলার অসংখ্য গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।গত কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টিতে নদীর এই ভয়ংকর রূপ দেখে আতঙ্কিত বাসিন্দারা। আবার সেই শুখা নদীর ভয়ঙ্করী রূপ দেখতে ছাতা মাথায় কৌতুহলী জনতা ভীড় করেছে নদীর পাড়ে। মোবাইলে সেই রূপ ধরে রাখতে হুড়োহুড়ি। এই নদীটি হল বাঁকুড়ার নিজস্ব ও ভালবাসার গন্ধেশ্বরী। লাগাতার বৃষ্টিতে ফুলেফেঁপে বিধ্বংসী রূপে নদীটির ওপর থাকা জেলার দুটি গুরুত্বপূর্ন কজওয়ে বা সেতু জলের তলায়। হাঁটু থেকে কোমর সমান জল প্রচন্ড বেগে কজওয়ে বা সেতুগুলির ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে। একনজরে মনে হবে সমুদ্রের ঢেউ। প্রথমটি হল ছাতনা থেকে শুশুনিয়া যাওয়া প্রধান
রাজ্য সড়কের ওপর থাকা গন্ধেশ্বরী নদীর ওপর থাকা কজওয়েটি। শ্রাবণের শেষ সোমবার থেকে
গন্ধেশ্বরী নদীর জল বাড়তে বাড়তে কজওয়েটিকে ডুবিয়ে জল বয়ে যেতে শুরু করে।মঙ্গলবার থেকে ভয়ঙ্করি রূপ নেয়।
দ্বিতীয়টি হল বাঁকুড়া উগরাডিহি, রানীগঞ্জ রাজ্য সড়কের ওপর থাকা মানকানালি সেতু। এই সেতুর ওপর দিয়েও জল বয়ছে। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিরাপত্তার কারণে ওই সেতুর ওপর যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি সাধারণ মানুষের পারাপারও বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে বাঁকুড়া- উগড়াডিহি এলাকার ৪০ থেকে ৪৫ গ্রামের বাসিন্দারা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। সম্প্রতি এই সেতুর একটি অংশ ধসে পড়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশ সেতুর দু'পাশে ব্যারিকেড বসিয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করেছিল। তবুও ঝুঁকি নিয়েই চলত পারাপার। কিন্তু টানা বৃষ্টির জেরে গন্ধেশ্বরী নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। গন্ধেশ্বরী এতটাই ভয়ঙ্করী হয়ে উঠেছে যে নদীটির জলের তোড়ে উলটে গেছে একটি ডাম্পার। অন্যদিকে জেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র শুশুনিয়া যাওয়ার রাস্তার ওপর থাকা কজওয়েটি ডুবে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক, শিব ভক্ত ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েের পড়ুয়ারা ভোগান্তিতে পড়েছেন। যদিও ছাতনা থেকে আগয়া হয়ে শুশুনিয়া যাওয়ার বিকল্প রাস্তা রয়েছে। এই রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করার কথা বলা হচ্ছে। গন্ধেশ্বরীকে বাঁকুড়া জেলার নিজস্ব নদী বলা হয়। জেলার শালতোড়া ব্লকের কুলুরবাঁধ এলাকা এ নদীর উৎসস্থল। মুরলু টিলা ও সংলগ্ন ঢালগুলির বৃষ্টির জল গড়িয়ে এসে প্রথমে কুলুর বাঁধে ও পরে গন্ধেশ্বরীতে পড়ে। এই জলধারা স্রোত ক্রমশ শালতোড়া থেকে শুশুনিয়া পাহাড়ের পাদদেশ হয়ে ছাতনা, বাঁকুড়া ১, বাঁকুড়া শহর, বাঁকুড়া ২ ব্লক ছুঁয়ে ওন্দার ভূতেশ্বর গ্রামে দ্বারকেশ্বর নদে মিশেছে। এ জায়গাটিকে বলে দোমোহানির ঘাট।
প্রায় ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীপথ। এক সময় এই গন্ধেশ্বরী নদী ছিল স্রোতস্বিনী। নদীর দুপাশে গ্রাম ও শহর গড়ে ওঠায় গন্ধেশ্বরী নালাতে পরিনত হয়েছে। তাই গরমে নদীতে জল না থাকলেও বর্ষায় ভয়ঙ্করী রূপ নেয়।এই নদীর তীরে গড়ে উঠেছে শিউলিবনা, ধবন, গোগড়া, আগয়া, কাঁটাবনি, চামকড়া, দুলালকুঁড়ি প্রভৃতি গ্রামগুলি ও বাঁকুড়া শহর।
এ জেলাকে খরাপ্রবণ বলা হলেও, এখানে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১,৪০০-১,৫০০ মিলিমিটার।
সাধারণত বার্ষিক ৭০০ মিলিমিটারের কম বৃষ্টিপাত হলে সে অঞ্চলকে খরা-অঞ্চল বলা হয়ে থাকে। বাঁকুড়ার সমস্যাটা অন্য জায়গায়। বৃষ্টির জল ধরে রাখার মত ব্যবস্থা নেই। তার ওপর নদী ক্রমেই সংকুচিত হয়েছে। বৃষ্টির জল ধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। সেকারণেই এই বিপত্তি। দুই জায়গাতেই গ্রামবাসীদের আশঙ্কা প্রতিবার বন্যায় কজওয়ে বা সেতুর ব্যাপক ক্ষতি হয়। এবার জলস্রোত ছিল আরও মারাত্মক।কাজেই এবার ক্ষতির কী রকম হবে সেই আশঙ্কাতে রয়েছেন গ্রামবাসীর।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট