
আরামবাগ , ১৯আগস্ট (হি.স.): রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অসহায় মহিলাদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি সংঘের প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠল গোঘাট-১ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা সভানেত্রী মনিকা পালের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ঘিরে বুধবার গোঘাটের সাওড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।
সংঘের সাধারণ সদস্যদের অভিযোগ, সংঘের আর্থিক হিসাব জানতে চাইলে তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মারধরেরও অভিযোগ তোলেন কয়েকজন সদস্য। তাঁদের দাবি, সংঘ খোলা, বন্ধ করা এবং বিভিন্ন হিসাব সংক্রান্ত কাজের জন্য সদস্যদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হত। সেই অর্থের হিসাবও তাঁরা পাননি বলে অভিযোগ।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সংঘের আর্থিক লেনদেন নিয়ে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। হিসাব চাওয়াকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, সংঘের এক কো-অর্ডিনেটরও অভিযোগের কিছু অংশ স্বীকার করে জানান, মনিকা পাল তাঁকে কাজ ছাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন বলে অভিযোগ। ফলে সংঘের পরিচালনা ও আর্থিক হিসাব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গোঘাট থানার পুলিশ। বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্ত নেত্রীকে ঘিরে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে, অভিযোগ প্রসঙ্গে মনিকা পাল বলেন, “১৯ লক্ষ টাকার যে হিসাবের কথা বলা হচ্ছে, সেটি আগের বোর্ডের সময়কার হিসাব। ওই টাকার হিসাবের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই।” তাঁর বক্তব্য, তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সঠিক নয় এবং বিষয়টি যাচাই করলেই প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে।
যদিও সংঘের সদস্যদের অভিযোগ এবং মনিকা পালের বক্তব্যের মধ্যে রয়েছে স্পষ্ট মতপার্থক্য। অভিযোগের সত্যতা, সংঘের আর্থিক লেনদেন এবং ১৯ লক্ষ টাকার হিসাব—পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA