
হাফলং (অসম), ২৭ আগস্ট (হি.স.): লামডিং-বদরপুর পাহাড় লাইনে ফের বড়সড় রেল বিপর্যয়ের আশঙ্কা। নিউহাফলং ও নিউহারাঙ্গাজাওয়ের মধ্যবর্তী নিউহারাঙ্গাজাও স্টেশন সংলগ্ন ১১৮/১-৩ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ২০০ মিটার অংশে ১ নম্বর ও ২ছ নম্বর রেললাইন বসে যাওয়ায় গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে ওই দুই লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে এই অংশে একমাত্র ৩ নম্বর লাইন দিয়েই সীমিত ভাবে ট্রেন চলাচল করছে।
বৃহস্পতিবার রেল সূত্রে খবর, ক্ষতিগ্রস্ত দুই লাইন দ্রুত সচল করার জন্য গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতির কাজ চালানো হলেও ভূগর্ভস্থ জলের কারণে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। বসে যাওয়া অংশে নতুন করে মাটি ভরাট করে রেললাইন পুনর্বহালের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। কিন্তু মাটির গভীর থেকে ক্রমাগত জল বেরিয়ে আসায় সেই কাজেও বার বার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বর্তমানে পাইলিংয়ের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ জল নিয়ন্ত্রণ ও বের করে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ১ নম্বর ও ২ নম্বর লাইন কবে নাগাদ সম্পূর্ণ ভাবে সচল করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও সময়সীমা দিতে পারছে না রেল কর্তৃপক্ষ। বর্ষার কারণে পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি ও ভূগর্ভস্থ জলের পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল হয়ে ওঠায় কাজের অগ্রগতিতেও তার প্রভাব পড়ছে।
এদিকে পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে এবার বিকল্প পথের কথাও ভাবছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, নিউহারাঙ্গাজাও স্টেশন সংলগ্ন ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মাটি ভরাট করে পুরনো পদ্ধতিতে রেললাইন পুনর্নির্মাণের পরিবর্তে সেতু নির্মাণ করে ওই অংশের উপর দিয়ে রেলপথ নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ মাটি ও জলের সমস্যাকে এড়িয়ে স্থায়ী সমাধানের জন্য এই বিকল্প পরিকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে।
তবে সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে স্বাভাবিক ভাবেই সময় লাগবে অনেক বেশি। সেই কারণে আপাতত ৩ নম্বর লাইনকে ব্যবহার করেই সীমিত সংখ্যক দূরপাল্লার ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ ভাবনাচিন্তা করছে বলে সূত্রের খবর। একই সঙ্গে ১ নম্বর ও ২ নম্বর লাইনের কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে রেল চলাচলে বিধিনিষেধ বজায় রাখতে হতে পারে।
রেল সূত্রের ইঙ্গিত, সব দিক বিবেচনা করে এই পাহাড়ি রেলপথে প্রায় ছয় মাসের ‘মেগা ব্লক’ নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে নিউহারাঙ্গাজাও সংলগ্ন অংশে স্বাভাবিক রেল পরিষেবা ব্যাহত রেখে বৃহৎ পরিসরে পুনর্নির্মাণের কাজ চালানো হতে পারে। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কাজের প্রকৃতি, যাত্রী পরিষেবা এবং বিকল্প রেলপথের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
লামডিং-বদরপুর পাহাড় লাইনের ক্ষেত্রে নিউহারাঙ্গাজাও অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বরাক উপত্যকা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগের অন্যতম প্রধান এই পথে দীর্ঘমেয়াদি মেগা ব্লক হলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। ফলে রেলের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন এই পাহাড়ি রেলপথের উপর নির্ভরশীল যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা।
এখন মূল প্রশ্ন, ভূগর্ভস্থ জলের সমস্যা কাটিয়ে মাটি ভরাট করে ১ ও ২ নম্বর লাইন পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে, নাকি শেষ পর্যন্ত সেতু নির্মাণের বিকল্প পথেই যেতে হবে। সেই সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করছে নিউহারাঙ্গাজাওয়ে স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল কবে ফিরবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব