
ক্যানিং, ৩১ আগস্ট (হি. স.): সোমবার দুপুরে ব্যক্তিগত কাজে এসডিপিও ক্যানিংয়ের দফতরে গিয়েছিলেন ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশ রাম দাস। সেখান থেকে বাইকে করে বাড়ি ফেরার পথে দুষ্কৃতীদের হামলার মুখে পড়েন তিনি। তাঁকে একদল দুষ্কৃতি বাইক নিয়ে ধাওয়া করে বলে অভিযোগ। প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা তাড়া করে ক্যানিংয়ের কুজি পাড়ার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা হয়। যদিও স্থানীয়দের তৎপরতায় পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই হামলার পিছনে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতিরা রয়েছে বলে দাবি করেছেন পরেশ। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার, এসডিপিও সহ ক্যানিং থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, সোমবার ব্যক্তিগত কাজে ক্যানিং মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের দফতরে গিয়েছিলেন বিধায়ক পরেশ। সঙ্গে ছিলেন দিঘিরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শিলাদিত্য রায়ও। সেখানে কাজ সেরে বাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন বিধায়ক। অভিযোগ সেই সময় সাত আটটি বাইকে করে একদল দুষ্কৃতি তাঁর পিছু নেয়। অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তিনি যখন প্রদীপ সংঘের কাছে আসেন তখন তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। কিন্তু সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত মানুষজন প্রতিরোধ গড়ে তুললে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
ঘটনার সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে গোটা বিষয়টি জানান পরেশ। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি, ঘটনার তদন্তে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্তেরও দাবি করেছেন বিধায়ক। পরেশ বলেন, “ পরিকল্পনা করে আমাকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল। বরাত জোরে প্রাণে বেঁচেছি। পুলিশ, প্রশাসন, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।”
যদিও বিধায়কের অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির জয়নগর সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক সমীর মণ্ডল বলেন, “ এই ঘটনায় বিজেপি জড়িত নয়। সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে পারে। তবে গুলি চালানোর চেষ্টার অভিযোগ মিথ্যা। বরং বিধায়ক কয়েকজনকে মারধর করেছেন। বাইক থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছেন।”
পরেশ বলেন, “ এলাকার মানুষ সব দেখেছেন। তাঁদের কাছে জিজ্ঞাসা করুন, এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরা চেক করুন। তাহলেই সব পরিস্কার হয়ে যাবে।” বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতিশ বিশ্বাস বলেন, “ অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা