
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ৩১ আগস্ট (হি.স.) : দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জলের তীব্র সংকটে ভুগছেন ধর্মনগর-কদমতলা মূল সড়কের নতুনবাজার এলাকার বাসিন্দারা। বারবার সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগ জানিয়েও সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সোমবার কলসি ও বালতি হাতে নিয়ে সড়ক অবরোধে নামলেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে পানীয় জলের সমস্যায় ভুগলেও প্রতিবারই মিলেছে শুধুমাত্র আশ্বাস, বাস্তবে মেলেনি সমাধান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০২০ সাল থেকেই নতুনবাজার এলাকায় পানীয় জলের তীব্র সমস্যা চলছে। পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবা পেতে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য একাধিকবার ডিডব্লিউএস দফতরের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, বারবার জানানোর পরও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, স্থানীয় প্রধানকেও একাধিকবার পানীয় জলের সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। কিন্তু তিনি বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দেননি। ফলে দিনের পর দিন সমস্যা আরও জটিল হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ জমছিল এলাকার মানুষের মধ্যে।
এদিন সেই ক্ষোভই প্রকাশ্যে আসে। সকাল থেকে কলসি, বালতি হাতে নিয়ে ধর্মনগর-কদমতলা মূল সড়কের নতুনবাজার এলাকায় জড়ো হন গ্রামবাসীরা। পরে তাঁরা সড়ক অবরোধ করে পানীয় জলের স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, পানীয় জলের মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আর কতদিন তাঁদের দুর্ভোগ পোহাতে হবে? বারবার আশ্বাসে আর তাঁরা সন্তুষ্ট নন, এবার তাঁরা বাস্তব সমাধান চান।
গ্রামবাসীদের সড়ক অবরোধের জেরে ধর্মনগর-কদমতলা গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। রাস্তার দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। কর্মস্থলে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি কর্মী, সাধারণ যাত্রী ও পথচলতি মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। দীর্ঘক্ষণ সড়ক অবরোধ চলায় এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
অবরোধের খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে ডিডব্লিউএস দফতরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন। দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি আগামী সাত দিনের মধ্যে এলাকায় পানীয় জলের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।
দফতরের এই আশ্বাসের পর অবশেষে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন গ্রামবাসীরা। স্বাভাবিক হয় ওই সড়কে যান চলাচল। তবে বছরের পর বছর ধরে চলা সমস্যার পর ফের নতুন করে আশ্বাস পাওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে যেমন কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে, তেমনই রয়েছে সংশয়ও।
এখন আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এলাকায় পানীয় জলের ব্যবস্থা হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন নতুনবাজার এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, এবার যেন শুধুমাত্র আশ্বাসে বিষয়টি সীমাবদ্ধ না থাকে। দীর্ঘ ছয় বছরের পানীয় জলের সংকটের স্থায়ী সমাধানই চান তাঁরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ