
আগরতলা, ৩১ আগস্ট (হি.স.) : সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে পশ্চিম জেলা ট্রাফিক সুপারের কাছে ডেপুটেশন প্রদান করল ত্রিপুরা ইলেকট্রনিক রিক্সা শ্রমিক সংঘ। সোমবার সংগঠনের উদ্যোগে প্রথমে আগরতলা শহরে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিক্রমা করে পশ্চিম জেলা ট্রাফিক সুপারের কার্যালয়ের সামনে এসে সমবেত হয়। পরে সংগঠনের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ট্রাফিক সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের দাবিসমূহের সমর্থনে স্মারকলিপি প্রদান করে।
এদিনের কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের নেতা অসীম দত্ত। মিছিল চলাকালীন ই-রিকশা শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে স্লোগান দেওয়া হয়। সংগঠনের বক্তব্য, শহর ও শহরতলির যাতায়াত ব্যবস্থায় ই-রিকশা চালকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও তাঁদের নানা সমস্যা ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়গুলি তুলে ধরা হলেও সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ সংগঠনের।
মিছিল শেষে সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল অসীম দত্তের নেতৃত্বে পশ্চিম জেলা ট্রাফিক সুপারের কার্যালয়ে যায়। সেখানে ট্রাফিক সুপারের সঙ্গে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ডেপুটেশন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অসীম দত্ত জানান, তাঁদের উত্থাপিত দাবিগুলির যৌক্তিকতা পশ্চিম জেলা ট্রাফিক সুপার স্বীকার করেছেন। শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস মিলেছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, ই-রিকশা শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিদাওয়া নিয়ে এর আগেও সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা শাসকের কাছে ১১ দফা দাবির ভিত্তিতে ডেপুটেশন প্রদান করা হয়েছিল। এবার ট্রাফিক সংক্রান্ত সাত দফা দাবির বিষয়টিও তার সঙ্গে যুক্ত করে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে এগোনোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অসীম দত্তের বক্তব্য অনুযায়ী, জেলা প্রশাসন ও ট্রাফিক দফতরের কাছে উত্থাপিত সমস্ত দাবিগুলিকে একত্রিত করে আগামী দিনে রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কিছুদিনের মধ্যেই সংগঠনের পক্ষ থেকে মহাকরণ অভিযান করা হবে এবং সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে স্মারকলিপি তুলে দিয়ে ই-রিকশা শ্রমিকদের সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধানের দাবি জানানো হবে।
সংগঠনের নেতৃত্বের দাবি, ই-রিকশা চালকদের স্বার্থে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানই তাঁদের মূল লক্ষ্য। তবে দাবি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হতে পারে বলেও এদিনের কর্মসূচি থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ