
আগরতলা, ৩১ আগস্ট (হি.স.) : বিশালগড়, বক্সনগর ও সোনামুড়া হয়ে বিলোনিয়া পর্যন্ত নতুন করে জাতীয় সড়ক নির্মাণের কোনও পরিকল্পনা আপাতত রাজ্য সরকারের নেই। তবে আগামী দিনে ডবল লেনের সড়ক নির্মাণের ইচ্ছা সরকারের রয়েছে। আর্থিক সংস্থানের উপরই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি নির্ভর করছে। সোমবার বিধানসভায় বক্সনগরের বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেনের এক প্রশ্নের উত্তরে এই তথ্য জানান মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।
বর্তমানে বিশ্রামগঞ্জ থেকে মেলাঘর, সোনামুড়া হয়ে বিলোনিয়া পর্যন্ত যে হাইওয়ে সড়ক রয়েছে, তার মেলাঘর-সোনামুড়া অংশের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ গোমতী নদীর বাঁধের উপর দিয়ে গিয়েছে। হাইওয়ে নির্মাণ ও যানবাহনের চাপের কারণে ভবিষ্যতে নদীর বাঁধের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে বিধানসভায় বিষয়টি তুলে ধরেন বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেন।
তাঁর বক্তব্য, গোমতী নদীর বাঁধ কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে মেলাঘর থেকে সোনামুড়া পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের জীবন ও সম্পত্তির উপর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে বর্ষার সময় বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়লে বন্যার আশঙ্কা আরও বেড়ে যাবে। তাই ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে বর্তমান রুটের বিকল্প হিসেবে বিশালগড় থেকে বক্সনগর, সোনামুড়া হয়ে বিলোনিয়া পর্যন্ত হাইওয়ে সম্প্রসারণের দাবি জানান তিনি।
বিধায়কের যুক্তি, বিকল্প এই রুটে সড়ক নির্মাণ করা হলে একদিকে যেমন জাতীয় সড়ক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে, অন্যদিকে মেলাঘর-সোনামুড়া অংশে গোমতী নদীর বাঁধের উপর থেকে যানবাহনের চাপও কমানো সম্ভব হবে। এর ফলে বাঁধ সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষকে সম্ভাব্য বন্যার বিপদ থেকেও রক্ষা করা যেতে পারে।
বিধায়কের প্রস্তাবের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে। আগামী দিনে ডবল লেনের রাস্তা নির্মাণের ইচ্ছা রয়েছে রাজ্য সরকারের। তবে এই ধরনের বড় পরিকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থের সংস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফান্ডের উপরই প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়টি নির্ভর করছে বলে তিনি বিধানসভায় স্পষ্ট করেন।
এদিকে, আগরতলা শহরের যানজট নিরসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও এদিন বিধানসভায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। বিধায়ক দীপঙ্কর সেনের এক প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে নির্মীয়মাণ/বিদ্যমান ফ্লাইওভারটি বিমানবন্দর এবং আমতলি পর্যন্ত সম্প্রসারণের কোনও পরিকল্পনা আপাতত রাজ্য সরকারের নেই।
তবে শহরের যানজট কমাতে অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ফায়ার ব্রিগেড এলাকা থেকে কের চৌমুহনী, শংকর চৌমুহনী, দুর্গা চৌমুহনী হয়ে কাটাখালের উপর দিয়ে রাধানগর পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলির মধ্যে যান চলাচল আরও দ্রুত ও স্বচ্ছন্দ করার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ব্যস্ত মোড়ে যানজটের চাপ কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ ত্রিপুরার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও এদিন বিধানসভায় আলোচনা হয়। মথা বিধায়ক সঞ্জয় ত্রিপুরার প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, শান্তিরবাজার থেকে করবুক পর্যন্ত সড়কের উন্নয়নের জন্য এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর কাছে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। অর্থায়ন ও অনুমোদনের বিষয়টি এগিয়ে গেলে ওই গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথের উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
একই দিনে বিধানসভায় রাজ্যের সড়ক ও যোগাযোগ পরিকাঠামোর উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসায় স্পষ্ট হয়েছে, বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে সরকার বিকল্প সড়ক, ডবল লেনের রাস্তা ও ফ্লাইওভারের মতো পরিকাঠামোগত প্রকল্পের দিকে নজর দিচ্ছে। তবে বড় প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে অর্থের সংস্থানই মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে থেকে যাচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ