পানাগড় শিল্পতালুকে মদ কারখানার বর্জ্য জলে বিপন্ন সেচ ক্যানেল, দূষিত হচ্ছে চাষজমি
দুর্গাপুর, ১৪ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : ছিল বিড়াল, হলো রুমাল! ছিল সেচ ক্যানেল, শিল্পায়নের থাবায় তা বদলে গেল বর্জ্য নিকাশীতে। এমনই নজিরবিহীন ছবি উঠে এলো পানাগড় শিল্পতালুকের একটি বেসরকারী মদ কারখানার বর্জ্য জলে। দুর্গন্ধভরা কালো বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে ক
পানাগড় শিল্পতালুকে মদ কারখানার বর্জ্য জলে বিপন্ন সেচ ক্যানেল, দূষিত হচ্ছে চাষজমি


দুর্গাপুর, ১৪ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : ছিল বিড়াল, হলো রুমাল! ছিল সেচ ক্যানেল, শিল্পায়নের থাবায় তা বদলে গেল বর্জ্য নিকাশীতে। এমনই নজিরবিহীন ছবি উঠে এলো পানাগড় শিল্পতালুকের একটি বেসরকারী মদ কারখানার বর্জ্য জলে। দুর্গন্ধভরা কালো বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে কয়েক হাজার হেক্টর চাষজমি। আর তাতেই দুঃশ্চিন্তায় পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসী-১ নম্বর ব্লকের মাড়ো, ভিড়সীন, খাঁপাড়া, খামারগ্রাম, নূরকোনা সহ একাধিক গ্রামের কৃষকরা। বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ। প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী।

উল্লেখ্য, পানাগড় শিল্পতালুকে রয়েছে একটি বেসরকারী মদ তৈরির কারখানা। বছর আটেক আগে ওই কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়। উৎপাদন শুরু হতেই মাত্রাতিরিক্ত দুর্গন্ধে জেরবার আশপাশের কোটা, চণ্ডীপুর, নতুনগ্রাম, মাড়ো সহ ১০টিরও বেশি গ্রামের বাসিন্দারা। তার ওপর মদ কারখানার বর্জ্য জল মিশছে পার্শ্ববর্তী খড়ি নদী ও এমসি-৩ সেচ ক্যানেলে। কালো দুর্গন্ধযুক্ত ওই দূষিত জল পড়ছে চাষজমিতে, যার ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। বছর দুয়েক আগে গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে দূষিত জল ছাড়া বন্ধ হলেও, বছর ঘুরতেই আবারও কারখানার বর্জ্য জল ছাড়া শুরু হয়েছে।

বর্তমানে মদ কারখানার বর্জ্য জলে বিপন্ন খড়ি নদী। ওই দূষিত জলে এখন আর কেউ স্নান করতে পারেন না। পচা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ নদী ও সেচ ক্যানেল তীরবর্তী গ্রামবাসীরা। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে কারখানার নোংরা জল খড়ি নদী, সেচ ক্যানেল, চাষজমি ও জলাশয়ে মিশে দূষিত করছে। জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হচ্ছে। কালো দূষিত জল পান করলেই গবাদি পশু অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কয়েক শ হেক্টর দুই ফসলি চাষজমি নষ্ট হওয়ার পথে। বছরখানেক আগে সেচ ক্যানেল ও খড়ি নদীর দূষিত জলের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তাতে দেখা যায় পিএইচ (pH) যৌগ অতিমাত্রায় রয়েছে এবং অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি। এছাড়াও কেমিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড (COD) ও বায়োলজিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড (BOD) অতিমাত্রায় পাওয়া গেছে। এক কথায় খড়ি নদী ও সেচ ক্যানেলের জল সেপ্টিক হয়ে গিয়েছে, যা মানবশরীরে মারাত্মক ক্ষতিকারক। আর তাতেই পানাগড় শিল্পতালুকে নতুন শিল্পে মাথায় হাত পড়েছে এলাকাবাসীর।

গলসী-১ নম্বর ব্লক কৃষি দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর খরিফ মরশুমে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছিল। দূষিত জলের কারণে মূলত বুদবুদ, মানকর, মাড়ো, ভিড়সীন, নূরকোনা, তিলডাঙা মৌজার প্রায় এক হাজার হেক্টর চাষজমির ধানে প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। আতঙ্কিত কৃষকরা জানান, মদ কারখানার দূষণে বিপন্ন আশপাশের গ্রামবাসীদের জীবনজীবিকা। বর্জ্য জলে চাষাবাদ নষ্ট হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে সেচ ক্যানেল, নদী, পুকুর ও জলাশয়। এমনকি ওইসব এলাকার ভূগর্ভস্থ জলেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। মদ কারখানার দূষণ নিয়ন্ত্রণে গাফিলতি রয়েছে। যেভাবে দূষিত জল মিশছে, তাতে খরচ করে ধান চাষ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনের নিকট অনুরোধ, এই দূষিত জল ছাড়া বন্ধ করা হোক। না হলে চাষের বিপুল লোকসান হবে।

দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষণচন্দ্র ঘোড়ুই বলেন, দূষিত জল সেচ ক্যানেল কিংবা চাষজমিতে ফেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এসব দূষণ সৃষ্টিকারী কারখানার বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হবে।

প্রশ্ন উঠছে, কারখানার বর্জ্য দূষিত জল নদীতে কেন ফেলা হচ্ছে? এরকম একটি দূষণ সৃষ্টিকারী সংস্থাকে কৃষিপ্রধান এলাকায় কারখানা তৈরির ছাড়পত্র কীভাবে দেওয়া হলো? কেনই বা দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ নজরদারি চালাচ্ছে না? যদিও এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি অভিযুক্ত কারখানা কর্তৃপক্ষ। দুর্গাপুর আঞ্চলিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ দফতরও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা




 

 rajesh pande