
কলকাতা, ১৮ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বাহিনীকে আরও আধুনিক এবং শক্তিশালী করে তোলার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা পুলিশ সদর দফতর লালবাজারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি বলেন, যেকোনো বিপর্যয়ের সময় উপযুক্ত কর্মী ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার মতো গাড়ি—উভয়ই সমানভাবে জরুরি।
মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, দুর্গাপূজার আগেই প্রতিটি থানায় একটি করে জরুরি গাড়ি (এমার্জেন্সি ভেহিকেল) প্রদান করা হবে। মহালয়ার দিন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক কর্মসূচির মাধ্যমে এই যানগুলি পুলিশ বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।
পুলিশ দফতরের দায়িত্বে থাকা মুখ্যমন্ত্রী নিজের জীবন বাজি রেখে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ আধিকারিকদের পুরস্কৃত করার জন্য বিশেষ পুরস্কারের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, রাজ্যের সমস্ত থানার আধুনিকীকরণ করা হবে, মহিলা হেল্পডেস্কগুলিকে আরও উন্নত করা হবে এবং সাইবার বিভাগে নজরদারি বাড়ানো হবে।
সাইবার অপরাধের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া এবং বহু মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ খোয়া যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সমস্যা মোকাবিলার জন্য তিনি সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের একটি নতুন স্কোয়াড গঠনের কথা জানান, যা দুর্গাপূজার আগেই কাজ শুরু করবে এবং এতে অগ্নিনির্বাপক কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
ঘূর্ণিঝড়ের সময় পূর্ববর্তী সরকারের ব্যর্থতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সে সময় অন্য রাজ্য থেকে দুর্যোগ মোকাবিলা দল ডাকতে হয়েছিল এবং স্থানীয় প্রশাসনকে চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তিনি জানান, এই পরিস্থিতির বদল ঘটানো হবে এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। প্রতিটি থানাকে বিশেষ গাড়ি প্রদান করা হবে, যার জন্য চলতি বছরের বাজেটে একটি বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী নিচের সারির পুলিশকর্মীদের জন্য আর্থিক সহায়তার কথাও ঘোষণা করেন। তিনি জানান, অক্টোবর মাসে দুর্গাপূজা চলাকালীন রেশন, অগ্রিম বেতন এবং বর্ধিত মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) প্রদান করা হবে।
রাজ্যবিরোধী কাজকর্ম এবং নারীদের ওপর হিংসার ক্ষেত্রে সরকারের ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, পুলিশকে উপরমহলের কোনও আদেশের জন্য অপেক্ষা না করে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ঘুষ নিতে গিয়ে পুলিশকর্মীদের গ্রেফতার হওয়ার ঘটনার এই ধারাবাহিকতা এবার বন্ধ হওয়া উচিত। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তোলাবাজির এই সংস্কৃতিকে এখানেই থামতে হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি