বিজেপি-র হাঁড়িকাঠে 'আমরা গলা রাখলাম কেন', প্রশ্ন কুণালের
কলকাতা, ১৯ সেপ্টেম্বর (হি. স. ) : শুধু শুভেন্দু অধিকারী বা বিজেপিকে দোষ দিলে হবে না। ওরা হাঁড়িকাঠ পেতে রেখেছে, আমরা গলা রাখলাম কেন? কেন আমরা পরিস্থিতি অনুধাবন করলাম না? শনিবার সামাজিক মাধ্যমে এই প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। ''বিষয়: উপ
সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ


কলকাতা, ১৯ সেপ্টেম্বর (হি. স. ) : শুধু শুভেন্দু অধিকারী বা বিজেপিকে দোষ দিলে হবে না। ওরা হাঁড়িকাঠ পেতে রেখেছে, আমরা গলা রাখলাম কেন? কেন আমরা পরিস্থিতি অনুধাবন করলাম না?

শনিবার সামাজিক মাধ্যমে এই প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ।

'বিষয়: উপনির্বাচন' শিরোনাম দিয়ে তিনি লিখেছেন, যা ঘটেছে, দুর্ভাগ্যজনক। বিজেপি সরকার যেভাবে মমতাদি ও তৃণমূলকে টার্গেট করে পুলিশ ও আনুষঙ্গিক কাঠামো নামিয়ে প্রার্থী ও তার ঘনিষ্ঠ কর্মীদের প্রভাবিত করেছে, তা অভাবনীয়। সেই সঙ্গে শত্রুর হিংস্র কূটকৌশল জেনেও সময়োচিত রাজনৈতিক রণকৌশল নিতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।

আজ বলতে বাধ্য হচ্ছি, বিজেপির চক্রান্তে নির্বাচন কমিশন দলের নাম ও স্থগিত অন্তর্বর্তীকালীন ফ্রিজ করার ইস্যুতে মমতাদির প্রাথমিক সিদ্ধান্ত ছিল, কোর্টে লড়ব।

কিন্তু অন্য চিহ্নে নির্দলের ভোট লড়ব না। ইসি- র সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কড়া চিঠি দিয়ে বিকল্প নাম বা প্রতীক এলেও অন্য রণকৌশলের দরজা খোলা ছিল।

এই বিষয়ে ডেরেকের সঙ্গে আমার সবিস্তার কথা হয়েছে এবং আমরা দিদির মনোভাবের সঙ্গে একমত ছিলাম, মূল মামলা লড়া হোক কোর্টে। উপনির্বাচন কংগ্রেসকে সমর্থন করা হোক। কারণ বিজেপির চাপ থেকে প্রার্থীদের রক্ষা করা এখন কঠিন। আমাদের ভোট কংগ্রেসকে ট্রান্সফার করে লড়া হোক।

দিদির মুখ থেকেও শুনেছি উপনির্বাচনে এভাবে লড়ার মানে হয় না। আমারও মত, কিছু সময় কিছু বিপদ কৌশলে সাময়িকভাবে এড়ানো ভালো। ডেরেকও একমত ছিল। এটা শুধু সাময়িক উপনির্বাচনগত সিদ্ধান্ত, আমাদের কর্মীরা সেটা বুঝতেন।

তারপর কী হয়েছে, বলতে পারব না। দল প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। কোনো বৈঠক বা আলোচনা হয়নি। এখন যেভাবে দুই কেন্দ্রেই মুখ পুড়ল, তার দায়িত্ব অবশ্য সকলকেই নিতে হচ্ছে।

নন্দীগ্রামের সঞ্চিতা দুমাস আগে নিজে যোগাযোগ করে উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। আমি জানতাম বিষয়টা। কিন্তু আমি ওঁর নাম দিদিকে সুপারিশ করিনি কিছু কারণে। দল প্রার্থী করার আগে একবার আলোচনা হলে আমি বারণ করতাম। কারণ নন্দীগ্রাম আমাদের কিছু বিজ্ঞ লাটে তুলে দিয়েছে। কর্মীরা কষ্টে আছেন। ঘর সাজাতে সময় লাগবে। রেজিনগর অনেক কিছু শুনছিলাম। আমি বারণ করার কেউ নই।

দল পরাজিত, সেটা একরকম। কিন্তু তার পরেও কৌশলগত ভুলে মুখ পুড়লে কর্মীরা কষ্ট পান।

ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইটার ক্ষতি হয়।

আমি এবং অসংখ্য কর্মী মমতাদির সঙ্গেই আছি, থাকব। চাটন, বেইমান, গদ্দারদের এই বিজেপির দালালির ভবিষ্যত অন্ধকার। এখন আমাদের কিছু কটাক্ষ শুনতে হবে। কিন্তু দল আগের পদ্ধতিগত ভুল শুধরে দিদির নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়াবে, পদ্ধতি সংশোধন দরকার, অপ্রিয় সত্য আলোচনা দরকার, এগুলো বারবার বলি, আবার বলছি। দিদির নেতৃত্বেই আবার সব ঠিকঠাক হবে। আমি আত্মবিশ্বাসী।

মনে রাখুন, এই ঝামেলা শুধু উপনির্বাচনকেন্দ্রিক।

বৃহত্তর লড়াই কোর্টে ও মানুষের দরবারে চলছে, চলবে। দিদির নেতৃত্বে আমরা জিতব।

মমতা ব্যানার্জি জিন্দাবাদ।

তৃণমূল কংগ্রেস জিন্দাবাদ। জয় বাংলা।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত




 

 rajesh pande