দুর্গাপুর, ৩১ জুলাই (হি.স.) : কারখানার কুলিং টাওয়ার ব্লাস্ট করে জখম হল ৩ শ্রমিক। বৃহস্পতিবার ঘটনাকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ শ্রমিকদের। সুরক্ষায় গাফিলাতির অভিযোগ। কারখানায় প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবাটুকুও নেই বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুরের সগরভাঙা এলাকায় একটি বেসরকারি ইস্পাত কারখানায়। প্রশ্ন উঠেছে রাজ্য ফ্যাক্টরী পরিদর্শকের ভুমিকায়। খবর পেয়ে দুর্গাপুর কোকওভেন থানার পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেয়।
ঘটনায় জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সাড়ে ১১ টা নাগাদ দুর্গাপুর সগড়ভাঙায় একটি বেসরকারি কারখানার ভেতর থেকে আচমকাই বিস্ফোরণের বিকট আওয়াজে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। তাতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। কারখানা লাগোয়া বস্তিতে আগুনের ঝলক ও ছাই উড়ে আসে বলে অভিযোগ। জানা গেছে, কারখানার কুলিং টাওয়ারে বিস্ফোরণ ঘটে। তাতেই বিপত্তি ঘটেছে। ঘটনার জেরে জখম হয় কারখানার এক গাড়ি চালক ও দুই শ্রমিক। তাদের দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। এদিকে, কারখানার দুর্ঘটনার জেরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে কারখানা সংলগ্ন বস্তিবাসীদের মধ্যে। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা অভিযোগে জানান, বিস্ফোরণর আওয়াজে কেঁপে উঠেছে বাড়িঘর, ফাটল ধরেছে দেওয়ালে। ছোট ছোট বাচ্চা আছে, হার্টের রোগীরা আছে। আতঙ্কিত আমরা। দুর্গাপুর-বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সহ সভাপতি চন্দ্রশেখর বন্দোপাধ্যায় বলেন, এই কারখানা নিয়ে বহু অভিযোগ আছে। এরা স্থানীয় ছেলেদের কাজে নেয় না। বিহার ঝাড়খন্ড থেকে ছেলে এনে কাজ দেয়। কাজের জায়গায় শ্রমিকদের কোনো নিরাপত্তা নেই। নেই কোনো পিএফ, গ্র্যাচুইটি। কর্তৃপক্ষ ভেবেছে তৃণমূলকে হাত করে সব করে নেবে। কিন্তু তা আর হবে না। শ্রমিক স্বার্থে যা লড়াই করার এবার আমরা করবো।সিটু নেতা সিদ্ধার্থ বসু বলেন,“ কারখানায় শ্রমিক সুরক্ষা তলানিতে। তৃণমূলের সঙ্গে অশুভ আঁতাত রয়েছে। যার জেরে কারখানার কোনরকম সুরক্ষা ব্যাবস্থাকে তোয়াজ করে না কর্তৃপক্ষ। আরও আশ্চর্যের বিষয়, শহরে ফ্যাক্টরী পরিদর্শকর অফিস। অথচ এসব কারখানার সুরক্ষা ব্যাবস্থা খতিয়ে দেখে না। রাজ্য সরকারের চুড়ান্ত গাফিলাতির জেরে এধরনের দুর্ঘটনার মাশুল দিতে হয় সাধারন শ্রমিকদের। আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আগামীদিনে বৃহত্তর আন্দোলন শুরু হবে। অন্যদিকে, স্থানীয় তৃণমূল নেতা স্বপন ব্যানার্জী বলেন, আমাদের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন কারখানায় আগে শ্রমিকদের প্রাণ। এই কারখানায় যে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাতে কর্তৃপক্ষ তাদের দায় এড়াতে পারেন না। যদিও কারখানা কর্তৃপক্ষ কোন মন্তব্য করতে চায়নি। অপরদিকে কারখানায় এই বিস্ফোরণের জেরে উত্তেজনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কোকওভেন থানার পুলিশ। এবং পরিস্থিতি সামাল দেয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা