উত্তরবঙ্গে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা, মুখ্যসচিবের তরফেও সতর্কতা জারি
কলকাতা, ৩১ জুলাই (হি. স.) : আগামী কয়েকদিন অর্থাৎ নতুন ইংরেজি মাস আগস্টের প্রথম দিন থেকেই উত্তরবঙ্গে ব্যাপক বৃষ্টির সম্ভাবনা। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তরফে এই নিয়ে বিশদে রাজ্য সরকারের কাছে বার্তা পৌঁছেছে। এর প
উত্তরবঙ্গে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা, মুখ্যসচিবের তরফেও সতর্কতা জারি


কলকাতা, ৩১ জুলাই (হি. স.) : আগামী কয়েকদিন অর্থাৎ নতুন ইংরেজি মাস আগস্টের প্রথম দিন থেকেই উত্তরবঙ্গে ব্যাপক বৃষ্টির সম্ভাবনা। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তরফে এই নিয়ে বিশদে রাজ্য সরকারের কাছে বার্তা পৌঁছেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বৃহস্পতিবার সতর্কতা জারি করেছেন এ রাজ্যের মুখ্য সচিব ড. মনোজ পন্থ। এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই খবর স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, চলতি জুলাই মাস জুড়েই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় চলছে একটানা ও প্রবল বর্ষণ। আগামী কয়েকদিনে বর্ষাকালীন এই বৃষ্টি আরো বাড়বে - আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। এর ফলে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলায় ফের ভারী বৃষ্টির সতর্কতার সঙ্গে সম্ভাবনার বার্তা রয়েছে। আর সেই আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার বিশেষ বৈঠক করলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ।

তিস্তা-সহ বিভিন্ন নদীর জলস্তর বাড়তে থাকায় নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই মুখ্যসচিব উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের সচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এর পাশাপাশি দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুর - এই ছয় জেলার জেলাশাসকদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার ও শনিবার দার্জিলিং পাহাড়ে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হলেও, ডুয়ার্স ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলে বেশ কিছু জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ ভারী থেকে অতি - ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসঙ্গে ঝোড়ো হাওয়াও বয়ে যেতে পারে কিছু জেলায়।

এদিকে, লাগাতার বর্ষণে ইতিমধ্যেই তিস্তা নদীর জলস্তর বেশ কিছুটা বেড়ে গিয়েছে। গত বছর হিমবাহ ফেটে তিস্তা নদীর প্লাবনে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে সিকিম সহ উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। সেই স্মৃতি এখনও টাটকা রয়েছে। এ বছরেও একটানা বৃষ্টিতে নদীর তীরে থাকা বসতিগুলো ঝুঁকি নিয়েই জীবন যাপনের মধ্যেই রয়েছে। তিস্তা ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার দরুণ ইতিমধ্যেই নিচু এলাকাগুলি প্লাবিত হতে শুরু করেছে। জলপাইগুড়ি ও মালবাজারের কিছু অঞ্চলে নদীবাঁধের পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তায় প্রশাসন। ইতিমধ্যেই মেখলিগঞ্জ, ক্রান্তি, সালুগোড়া থেকে একাধিক বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। প্রয়োজনে আরও বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব। এ বিষয়ে জেলাশাসকদের আরো বলা হয়েছে, নিচু এলাকা চিহ্নিত করে আগেভাগেই মানুষজনকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিতে। প্রতিটি ব্লকে পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ জল, ওষুধ ও ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিপদজনক যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে উদ্ধারকারী দল, নৌকা ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও।রবিবার ও সোমবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী থেকে অতি - ভারি বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে । ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা মঙ্গলবারও রয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত




 

 rajesh pande