
আগরতলা, ১২ জানুয়ারি (হি.স.) : একটি শক্তিশালী জাতি গঠনের জন্য প্রয়োজন একটি আত্মবিশ্বাসী ও কর্মঠ যুব সমাজ। স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্বাস করতেন, যুব সমাজের আত্মবিশ্বাস ও অবদানই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। সোমবার আগরতলায় নজরুল কলাক্ষেত্রে রাজ্যভিত্তিক জাতীয় যুব উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় যুব দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হল যুব সমাজের মধ্যে রাষ্ট্রচেতনা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করা এবং স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। তিনি স্বামীজীকে জাগরণের অগ্রদূত ও যুগনায়ক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সময়েও তাঁর চিন্তা ও দর্শন সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। যুবকাল মানুষের শ্রেষ্ঠ সময়—এই সময়েই অন্তর্নিহিত প্রতিভা ও শক্তির বিকাশ ঘটে বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিদিনের জীবনে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ অনুসরণ করলেই যুব দিবসের প্রকৃত সার্থকতা অর্জিত হবে। তিনি বলেন, ‘মানুষের সেবার মধ্যেই ঈশ্বর সেবা’—এই দর্শনকে সামনে রেখে যুব সমাজকে শিক্ষা, সমাজসেবা ও দেশসেবায় নিজেদের নিয়োজিত করতে হবে। সুশৃঙ্খল জীবনযাপন, প্রকৃত শিক্ষা ও দেশপ্রেমই যুব দিবসের আসল মাহাত্ম্য।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের যুবশক্তির বিকাশে প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্যোগ, উদ্ভাবন, স্টার্টআপ ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। রাজ্য সরকারও দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, স্টার্টআপ সহায়তা, যুব উদ্যোক্তা প্রকল্প, শিক্ষা ও ক্রীড়াক্ষেত্রে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়ে যুব সমাজকে আত্মনির্ভর করে তুলছে। আত্মবিশ্বাসী ও কর্মঠ যুব সমাজ গড়ে তুললেই ২০৪৭ সালের বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণে ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, সারা দেশব্যাপী জাতীয় যুব দিবস পালন করা হচ্ছে এবং এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন দিল্লিতে যুব প্রতিনিধিদের সঙ্গে মত বিনিময় করবেন। তিনি বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভর দেশ ও রাজ্য গঠনের লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দফতরের সচিব ডঃ পি. কে. চক্রবর্তী, অধিকর্তা এল. ডালং, মাই ভারত এর রাজ্য অধিকর্তা বিমল কুমার সাহা প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য অতিথিরা স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এদিন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত এনএসএস ও স্কাউটস অ্যান্ড গাইডসের স্বেচ্ছাসেবক, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য ট্যালেন্ট সার্চ ও মুখ্যমন্ত্রী ক্রীড়া উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে পদকপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ এবং নেশামুক্ত অভিযান সচেতনতা কর্মসূচিতে বিশেষ অবদান রাখা বিভিন্ন ক্লাবকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অতিথিরা তাঁদের হাতে স্মারক উপহার তুলে দেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ