
হুগলি, ১৬ জানুয়ারি ( হি. স.) : ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে এবার মুখ খুললেন ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাঁকে শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ত্বহা সিদ্দিকী অভিযোগ করেছেন যে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশেষ একটি সম্প্রদায় এবং শাসকদলের সমর্থকদের হেনস্থা করা হচ্ছে।
শুক্রবার ত্বহা সিদ্দিকী জানান, গতকাল আমি এসআইআর শুনানির নোটিশ পেয়েছি। এমনকি শুনছি আমার প্রয়াত পিতার নামেও নোটিশ পাঠানো হতে পারে।
তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে যেখানেই এসআইআর নোটিশ পাঠানো হচ্ছে, তার সিংহভাগই পাচ্ছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ।
তিনি জানান, ফুরফুরা পঞ্চায়েত এলাকায় মোট ১৪ হাজার ভোটারের মধ্যে প্রায় ৭ হাজার মানুষকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ৮৫০ জনই সংখ্যালঘু ভোটার।
ত্বহা সিদ্দিকীর আরও দাবি, বিজেপির ইশারায় এই কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিজেপি জানে মুসলমানরা তৃণমূলকে ভোট দেবে, তাই তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে হয়রান করার পাশাপাশি রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও শুনানির নামে অপমান করা হচ্ছে। ত্বহা সিদ্দিকী নিজেও জানিয়েছেন যে, ফুরফুরার প্রায় ১৫০টি হিন্দু পরিবারকেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে যারা তৃণমূলের সমর্থক।
তবে ত্বহা সিদ্দিকীই প্রথম নন, এর আগে রাজ্যের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে এসআইআর শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, সাংসদ ও অভিনেতা দেব, মোহনবাগানের প্রাক্তন সচিব স্বপনসাধন (টুটু) বোস, প্রখ্যাত কবি জয় গোস্বামী।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি