
কলকাতা, ১৭ জানুয়ারি (হি. স.) : বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার অধীনে পরিচয়পত্র যাচাই নিয়ে চলা বিতর্কের মধ্যেই কঠোর নির্দেশ জারি করল নির্বাচন কমিশন।
রাজ্যর সমস্ত নির্বাচনী পঞ্জীকরণ আধিকারিক এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তথা জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, নথিপত্র যাচাইকরণের অগ্রগতির বিষয়ে প্রতিদিন পৃথক পৃথক রিপোর্ট কমিশনকে পাঠাতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য কমিশন একটি দ্বি-স্তরীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রথম স্তরে প্রাথমিক যাচাইকরণ করবেন নির্বাচনী পঞ্জীকরণ আধিকারিকরা। দ্বিতীয় স্তরে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা সেই তথ্যের পুনরায় পরীক্ষা এবং চূড়ান্ত পুষ্টি করবেন।
কমিশন এই প্রক্রিয়ায় বিশেষ ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষক এবং মাইক্রো-অবজারভারদের ভূমিকাও স্পষ্ট করে দিয়েছে। শুনানি কেন্দ্রগুলিতে মোতায়েন থাকা মাইক্রো-অবজারভাররা নিশ্চিত করবেন যে, ভোটারদের পেশ করা পরিচয়পত্রগুলি কমিশনের নির্দেশিকা মেনেই পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না। কোনো বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে তারা সরাসরি কমিশনকে রিপোর্ট করবেন। অন্যদিকে, বিশেষ ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষকরা জেলাশাসকদের দ্বারা যাচাই করা নথিপত্রগুলি দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষা করার অধিকার পাবেন।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা। এই সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করতেই প্রতিদিনের রিপোর্টিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
বর্তমানে সেই সব ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের শুনানি চলছে, যাঁদের পরিচয় ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে স্ব-ম্যাপিং বা বংশতালিকা ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে মেলানো সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয় পর্যায়ে, পারিবারিক তথ্যে অসংগতি বা অস্বাভাবিক বংশতালিকা সংক্রান্ত মামলাগুলির শুনানি শুরু হবে।
উল্লেখ্য, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেই কমিশন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট বা ভোটের তারিখ ঘোষণা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি