বক্সনগরে রহস্যজনকভাবে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার
বক্সনগর (ত্রিপুরা), ১৮ জানুয়ারি (হি.স.) : রবিবার ভোরে সিপাহীজলা জেলার বক্সনগরের কাঁঠালিয়া সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকা থেকে এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে যাত্রাপুর থানার পুলিশ ও কাঁঠালিয়া ফায়
মৃতদেহ উদ্ধার


বক্সনগর (ত্রিপুরা), ১৮ জানুয়ারি (হি.স.) : রবিবার ভোরে সিপাহীজলা জেলার বক্সনগরের কাঁঠালিয়া সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকা থেকে এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে যাত্রাপুর থানার পুলিশ ও কাঁঠালিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মর্গে পাঠান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত ব্যক্তির নাম দীপঙ্কর পাল (৪৮)। তাঁর বাড়ি উত্তর মহেশপুর পঞ্চায়েত এলাকায়। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘কৃষ্ণ’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। দীপঙ্কর বিবাহিত হলেও বিয়ের ছয়–সাত মাসের মধ্যেই তাঁর স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে যান। এরপর থেকেই তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে পরিবারের দাবি। মাঝেমধ্যে নেশাগ্রস্ত থাকার অভ্যাসও ছিল তাঁর।

পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, দীপঙ্করের বাবা বাসু পাল বহু বছর আগে পুকুরের জলে ডুবে মারা যান। দুই ভাইয়ের মধ্যে দীপঙ্কর ছিলেন বড়। শনিবার সন্ধ্যার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ছোট ভাই বিষ্ণু পাল রাতভর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনও সন্ধান পাননি।

ভোর আনুমানিক তিনটার দিকে খবর আসে, কাঁঠালিয়া সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাছে চৌমুহনী এলাকার একটি পরিত্যক্ত বিশ্রামাগারে এক ব্যক্তি নিথর অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। স্থানীয়রা গিয়ে দেখেন, তিনি ইতিমধ্যেই মৃত। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

যাত্রাপুর থানার ওসি জানান, মৃতের ছোট ভাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা এখনও স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে।

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মৃতদেহের মাথার এক পাশে ও হাতে রক্তের কিছু দাগ লক্ষ্য করা গেছে, যা ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার পর থেকে কাঁঠালিয়া এলাকায় আতঙ্ক ও কৌতূহলের পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও রহস্যমৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার অপেক্ষায় রয়েছেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande