
গুয়াহাটি, ১৯ জানুয়ারি (হি.স.) : জীবিকা সুরক্ষা ও আয় সহায়তা বিষয়ক আইন ‘বিকশিত ভারত – গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) ২০২৫’ সংক্ষেপে ‘ভিবি-জি রাম জি’-র প্রধান বৈশিষ্ট্য ও উপকারিতা নিয়ে ‘বার্তালাপ’ শীৰ্ষক এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করেছেন বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকেরা।
আজ সোমবার গুয়াহাটির প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) জাতীয় গ্রামোন্নয়ন ও পঞ্চায়েতি রাজ ইনস্টিটিউট-এর উত্তরপূর্ব আঞ্চলিক কেন্দ্রের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘ভিবি-জি রাম জি’ সম্পর্কে অনুষ্ঠিত ‘বার্তালাপ’ শীৰ্ষক অনুষ্ঠানে এই আইন অসমের গ্রামীণ পরিবারগুলির জীবিকা সুরক্ষা ও আয় সহায়তা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বুঝিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
‘বর্তালাপ’ শীর্ষক আঞ্চলিক মিডিয়া সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে অসম সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব ড. বি কল্যাণ চক্রবর্তী বলেন, আইনের আওতায় নিশ্চিত কর্মদিবসের সংখ্যা বৃদ্ধি করা গ্রামীণ পরিবারের টেকসই আয় সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ডিজিটাল মজুরি প্রদানের ব্যবস্থাকে আইনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়, সময়মতো মজুরি প্রদান সম্ভব হয় এবং অর্থপ্রদানে বিলম্ব দূর হয়।
ড. চক্রবর্তী মিডিয়া কর্মশালা আয়োজনের জন্য পিআইবি গুয়াহাটির প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের মঞ্চ মিডিয়া পেশাজীবীদের মধ্যে গ্রামোন্নয়নমূলক প্রকল্প সম্পর্কে সচেতনতা ও বোঝাপড়া বাড়াতে সহায়ক।
আইনের মূল বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জাতীয় গ্রামোন্নয়ন ও পঞ্চায়েতি রাজ ইনস্টিটিউট-এর অধিকর্তা ড. আর মুরুগেশন বলেন, ‘ভিবি-জি রাম জি’ আইন প্রতি অর্থবছরে প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারকে ন্যূনতম ১২৫ দিনের মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থানের আইনগত নিশ্চয়তা প্রদান করবে। তিনি বলেন, এই আইন জীবিকা সুরক্ষা জোরদার করা, গ্রামীণ সংকট হ্রাস এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ড. মুরুগেশন আরও জানান, আইনে উন্নত ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার সংযোজন করা হয়েছে, যা বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে, অনিয়ম কমায় এবং ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা আরও দৃঢ় করে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কৃপাশংকর যাদব বলেন, এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে এমজিএনরেগা ও সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলির সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তিনি আরও বলেন, ভারত সরকার ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ‘ভিবি-জি রাম জি’ আইন সম্পর্কে সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্য ব্যাপকভাবে প্রচারের জন্য মিডিয়া পেশাজীবীদের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস