ককবরক দিবসে রোমান লিপির দাবিতে বিক্ষোভ আগরতলায়
আগরতলা, ১৯ জানুয়ারি (হি.স.) : সোমবার আগরতলায় ককবরক দিবস উদযাপন অনুষ্ঠান চলাকালীন নাটকীয় মোড় নেয় পরিস্থিতি। ককবরক ভাষার জন্য রোমান লিপির সরকারি স্বীকৃতির দাবিতে বিক্ষোভে শামিল হন উপজাতি ছাত্রছাত্রীরা, যার জেরে শহরের একাংশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অনুষ্
বিক্ষোভ মিছিল


আগরতলা, ১৯ জানুয়ারি (হি.স.) : সোমবার আগরতলায় ককবরক দিবস উদযাপন অনুষ্ঠান চলাকালীন নাটকীয় মোড় নেয় পরিস্থিতি। ককবরক ভাষার জন্য রোমান লিপির সরকারি স্বীকৃতির দাবিতে বিক্ষোভে শামিল হন উপজাতি ছাত্রছাত্রীরা, যার জেরে শহরের একাংশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

অনুষ্ঠান চলাকালীন একটি মিছিল শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। মিছিল এগুনোর সঙ্গে সঙ্গে টিএসএফ ও টিআইএসএফ-এর মতো একাধিক উপজাতি ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা তাতে যোগ দেন। হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে এবং স্লোগান দিতে দিতে তারা ককবরক ভাষার পাশাপাশি রোমান লিপিকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তোলেন। পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীরা মিছিলটি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিক্ষোভকারীরা এগিয়ে যেতে থাকেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস ভবনের কাছে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করে। পরে তাদের এডি নগর পুলিশ মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিক্ষোভকারীরা জানান, তাদের দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট ও যৌক্তিক। তাদের বক্তব্য, “ককবরক আমাদের মাতৃভাষা। এই ভাষা লেখার ক্ষেত্রে আমরা রোমান লিপি ব্যবহার করতে চাই। তাই রোমান লিপিকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হোক—এই দাবিটাই আমরা তুলে ধরেছি।” ককবরক দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে সরকারকে এই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য বলে জানান তারা।

অন্যদিকে, ককবরক ভাষা উন্নয়ন উপদেষ্টা কমিটির সহ-সভাপতি ও বিধায়ক রামাপদ জামাতিয়া এই দাবিকে কড়া ভাষায় খারিজ করেন। তিনি রোমান লিপির দাবিকে “বিদেশি ষড়যন্ত্র” আখ্যা দিয়ে বলেন, ককবরকের লিপি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিতর্কের শীঘ্রই সমাধান হবে। তাঁর দাবি, ককবরক ভাষার জন্য একটি স্বতন্ত্র আদিবাসী লিপি প্রবর্তনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ককবরক ভাষার লিখিত রূপ নিয়ে রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা মতবিরোধ আবারও সামনে এল। একদিকে ছাত্র সংগঠনগুলির রোমান লিপির স্বীকৃতির জোরালো দাবি, অন্যদিকে সরকারি স্তরে নতুন আদিবাসী লিপির প্রস্তাব—এই দ্বন্দ্ব ককবরকের ভবিষ্যৎ পথচলাকে ঘিরে অনিশ্চয়তাই তুলে ধরছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এদিনের বিক্ষোভ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ককবরক লিপির প্রশ্নটি শুধু ভাষাগত নয়, বরং এর সঙ্গে গভীর আবেগ, পরিচয় ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের বিষয় জড়িয়ে রয়েছে। ফলে ককবরক দিবসের উদযাপনও এ বছর পরিণত হল ত্রিপুরার এক অমীমাংসিত ভাষাগত বিতর্কের প্রতীকে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande